দেশজুড়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে আগামী মাসে। Performance Linked Incentive নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগে অনেকদিন ধরেই ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এবার সেই অভিযোগ  বড় পদক্ষেপ করছেন  ব্যাঙ্ক কর্মচারীরা।  United Forum of Bank Unions (UFBU)-এর ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিভিন্ন দাবিতে একাধিক দিন ধর্মঘটের ডাক দিচ্ছে । দাবি পূরণ না হলে ২৬ অক্টোবর  থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে ইউনিয়নের তরফে ।

Continues below advertisement

কবে কবে ধর্মঘট?

প্রথমে ১১ সেপ্টেম্বর এক দিনের  জন্য দেশব্যাপী ধর্মঘট হবে। এরপর ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এরপরও যদি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে ২৬ অক্টোবর  থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করতে পারেন তাঁরা। ফলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের একটু খেয়াল রাখতে হবে। ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের দিনগুলির আগেই দরকারি কাজ সেরে রাখতে হবে। তবে এই ধর্মঘটের প্রভাব অনলাইন ও এটিএম পরিষেবার পড়বে কি না, এখনই স্পষ্ট নয়।

Continues below advertisement

ইউনিয়নগুলোর অন্যতম প্রধান দাবি হল, সপ্তাহে  পাঁচ দিন কাজ ও ২ দিন ছুটি। মাসে সবকটি শনিবারেই ছুটি দিতে হবে ব্যাঙ্ককর্মীদের । সরকারের Performance-Linked Incentive বা PLI স্কিমের বর্তমান কাঠামো নিয়েও আপত্তি রয়েছে। ইউনিয়নগুলোর দাবি, কর্মীদের মধ্যে বৈষম্য না রেখে ব্যাঙ্কের সব কর্মচারীদের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সমানভাবে ইনসেনটিভ দিতে হবে। এছাড়াও দাবির মধ্যে রয়েছে আরও কিছু আভ্যন্তরীণ  সমস্যা। কোন ব্যাংকের পরিষেবা বেশি প্রভাবিত হতে পারে? রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বেশ কিছু শাখায়  পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে State Bank of India, Bank of Baroda, Punjab National Bank-এর মতো সরকারি ব্যাঙ্কগুলি  রয়েছে। তবে বেসরকারি ব্যাঙ্ক যেমন, HDFC Bank, ICICI Bank সাধারণভাবে UFBU-র এই কর্মসূচির আওতায় নেই। তাই এই সব ব্যাঙ্কে পরিষেবা স্বাভাবিক থাকার কথা।  

ইউনিয়নের তরফে কী জানানো হয়েছে 

সেপ্টেম্বরের একদিনের ধর্মঘট এবং তিন দিনের পরপর ধর্মঘটের পরও যদি সরকার দাবি না-মানে, তবে .   ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা করেছে তারা। সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।   গ্রাহকরা কিছু কাজে অসুবিধে অনুভব করতে পারেন। তবে ধর্মঘটের আগে সরকার, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। তাতে ইতিবাচক কিছু  বেরিয়ে আসলে, তাদের কর্মসূচি পরিবর্তন, স্থগিত বা প্রত্যাহারও হতে পারে।