বেঙ্গালুরু: গত ১৫ মার্চ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়। শোকাহত মা মৃত ছেলের অঙ্গদান করে ৬ জনের প্রাণ বাঁচালেন, একটা ছোট্ট সিদ্ধান্ত অনেক মানুষের জীবন বাঁচাল। বেঙ্গালুরুর রাজাজী নগরের বাসিন্দা রেখা রাওয়ের ৩৩ বছর বয়সী ছেলে রাকেশ কুমার (Bengaluru News) এসের মৃত্যু হয় এক সড়ক দুর্ঘটনায়। এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার জন্য নিজের বাইক চড়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর বাইক হঠাৎ করে পিছলে যায় রাস্তায় এবং তিনি পড়ে যান। এত জোরে মাথায় আঘাত পান রাকেশ (Organ Donation) যে ঘটনাস্থলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পথচারী ব্যক্তিরা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
২৫ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছিলেন রেখা রাও। আর এবারে ছেলেকেও হারালেন তিনি। শোকে বিহ্বল হয়েও তিনি সংবাদমাধ্যমে জানান, 'আমি এটা জেনে মানসিকভাবে খুবই আশ্বস্ত হয়েছি যে রাকেশের অঙ্গ দানের মাধ্যমে আরও কারও জীবন (Bengaluru News) বাঁচানো গেল'। একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ছেলেকে ভর্তি করাতে বলা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু নিমহান্সে বেড না পাওয়ায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় শেষাদ্রিপুরমের অ্যাপোলো হাসপাতালে। রেখা রাও জানান, 'তাঁর মস্তিষ্ক আপনা থেকেই কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল।'
অ্যাপোলো হাসপাতালের ডা. বি রবি মোহন রাও এবং ডা. কার্তিকেয়ন ওয়াই আর জানিয়েছেন যে গুরুতরভাবে মাথায় ও মুখে চোট পাওয়ার কারণে জটিলতা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়। আর তার ফলে মস্তিষ্কের একটা অংশ অসাড় হয়ে যায়, জ্ঞান হারিয়ে যায় তাঁর। যদিও হাসপাতালের তরফে যারপরনাই চেষ্টা করা হয়েছিল তৎপরতার সঙ্গে তবু তাঁর অবস্থার উন্নতি ঘটানো যায়নি। অনেকগুলি অ্যাপনিয়া পরীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে আসা হয় রাকেশের ব্রেন ডেথ ঘটেছে। সেই কারণেই তাঁর মা রেখা রাও রাকেশের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রবি মোহন রাও জানান, ন্যাশনাল অর্গ্যান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্ল্যান্ট অর্গানাইজেশনের রিপোর্ট অনুসারে বেঙ্গালুরুতে ৪ হাজারেরও বেশি রোগীর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের চাহিদা রয়েছে। অ্যাপোলো হাসপাতালে রাকেশের যকৃত ও দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় যা যকৃত ও কিডনির সমস্যা-জর্জরিত রোগীদের চিকিৎসায় কাজে দেবে। এছাড়াও তাঁর কর্ণিয়া দান করা হয়, ভিক্টোরিয়া হাসপাতালকে দান করা হার্ট ভালভ ও ত্বক।