বিহার: অবৈধ প্রেমের চরম পরিণতি চোকাতে হল তরুণকে। মর্মান্তিক বললেও কম বলা হবে না। বন্ধুর বাড়ি প্রায় নিত্যদিন যেতে যেতে সেখানেই বন্ধুর মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায় ২২ বছরের এক তরুণের। গোপনই ছিল সেই সম্পর্ক। তবে একদিন তা হাতেনাতে ধরা পড়ে যেতেই জীবন দিয়ে দাম চোকাতে হল তাঁকে।
মঙ্গলবার পুলিশ অফিসাররা জানিয়েছেন, বিহারের সীতামারহিতে বন্ধুর মায়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। সূত্র ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে জানিয়েছে, চিকনা গ্রামের বাসিন্দা রাজা কুমারের জগদীশ রাইয়ের স্ত্রী এবং তার বন্ধুর মা রীনা দেবীর সঙ্গে চার থেকে পাঁচ বছর ধরে সম্পর্ক ছিল ঐ যুবকের।
দিল্লির একটি হোটেলে কাজ করা রাজা প্রায়শই তার বন্ধুর বাড়িতে প্যাকেজ পৌঁছে দিতে যেতেন। এই আসা যাওয়ার মাধ্যমেই রাজার সঙ্গে রীনা দেবীর ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। তাদের সম্পর্ক প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এক সপ্তাহ আগে, রাজা কুমার বাড়ি ফিরে আসেন এবং রীনা দেবীর বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু, তার উপস্থিতি টের পেয়ে তার পরিবার তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা তাকে প্রচণ্ড মারধর করে, যার ফলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রাজাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। নিকটবর্তী একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় আহত অবস্থায় যুবকটি মারা যায়। পুলিশ আধিকারিক বলেন, 'পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তারা যুবকটিকে অর্ধমৃত অবস্থায় দেখতে পায়। দলটি যখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তখনই বমি করতে শুরু করে সে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয়।'
ঘটনার পর, রাজার বাবার দেওয়া বয়ানের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রীনা দেবী, তার স্বামী জগদীশ রাই এবং রীনার জামাতা রাজীব কুমার এবং আরও দুই আত্মীয় সহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। রীনা দেবী এবং জগদীশ রাই উভয়কেই খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পর গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, "আমরা এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খোঁজ চালাচ্ছি। সমস্ত অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।"