নয়াদিল্লি: মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা জারি। হতাহতের আসল সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। সেই আবহেই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনী। তাঁর দাবি, কুম্ভে তেমন ‘বড় কিছু ঘটেনি’।
মহাকুম্ভে অমৃত স্নান করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে বহু মানুষ মারা গিয়েছেন। সরকারি মতে, ৩০ জন মারা গিয়েছেন, আহত হন ৬০ পুণ্যার্থী। বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা এর চেয়ে ঢের বেশি বলে যদিও দাবি সামনে আসছে। সেই নিয়ে তরজার মধ্যেই বিতর্ক বাধিয়ে বসলেন হেমা।
মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, “খুব বড় কিছু ঘটেনি। জানি না কত বড় ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে।” কুম্ভমেলার ব্যবস্থাপনা বেশ ভাল হয়েছিল বলেও মত হেমার। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশংসা করেন তিনি।
হেমাকে বলতে শোনা যায়, “খুব ভাল ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমরা কুম্ভে গিয়েছিলাম। ভাল ভাবে স্নান করেছি। একটা ঘটনা ঘটেছে সত্য। কিন্তু কোনও বড় ঘটনা নয়। বহু মানুষ আসছেন। সামাল দেওয়া কষ্টকর। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি। বিরোধীরা কথা বলবেনই। ওঁদের এটাই কাজ।”
কিন্তু হেমা যোগী সরকারের প্রশংসা করলেও, কুম্ভ নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ সামনে আসছে। ভিআইপি-দের গুরুত্ব দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করছেন পুণ্যার্থীরা। এমনকি একরাতে দু'-দু'টি পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটলেও, একটির সত্যতাই স্বীকার করা হয় বলে জানানো হয়। শুধুমাত্র বিরোধীরাই নন, হতাহতের আসল সংখ্যা অনেক বেশি বলে দাবি করছেন সাধারণ মানুষও।
মঙ্গলবার এ নিয়ে সংসদও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের দাবি, এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছে শিশুরাও। তিনি বলেন, "মহাকুম্ভে মৃত্যুর পরিসংখ্যান, আহতের সংখ্যা, ওষুধ, ডাক্তার, খাবা, জল, পরিবহণ, সব তথ্য সংসদে তুলে ধরতে হবে। মহাকুম্ভে বিপর্যয়ের জন্য যে বা যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যাঁরা সত্য গোপন করছেন, শাস্তি দিতে হবে তাঁদেরও। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কাছে জানতে চাই, কোনও দোষই যদি না থাকে, তাহলে সংখ্যা (হতাহতের) ধামাচাপা, লুকনো এবং মুছে দেওয়া হল কেন? যাঁরা ডিজিটাল কুম্ভ আয়োজনের দাবি করছেন, তাঁরা হতাহতের ডিজিট জানাতে পারছেন না। কেউই মা-বাবাকে হারিয়েছেন, কেউ মেয়েকে, কেউ ভাইবোনকে। কত সংখ্যক শিশু নিখোঁজ, এখনও সেই তথ্য নেই।”
অখিলেশের আগে দলের সাংসদ রামগোপাল বর্মা, জয়া বচ্চনও হতাহতের সংখ্যা লুকনোর অভিযোগ তুলেছেন। রামগোপালের দাবি, ১৫০০০ মানুষের পরিবারের লোকজন নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন। অথচ সরকার কোনও তথ্য দিচ্ছে না। জয়ার বক্তব্য, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দূষিত জল কোথায়? কুম্ভে। পদপিষ্ট হয়ে যাঁরা মারা যান, তাঁদের দেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে জল দূষিত হয়ে গিয়েছে। আসল বিষয়ে কোনও চর্চা নেই।” হতাহতের সংখ্যা নিয়ে লুকোছাপা চলছে বলে দাবি সাধারণ মানুষেরও।