বিহার : পাটনায় গঙ্গায় নৌকাডুবি। এখনও পর্যন্ত ২ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়ার পর থেকে ৫ জন এখনও নিখোঁজ। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত নৌকায় ১৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাটনার বাড় মহকুমার উমানাথ গঙ্গাঘাটের কাছে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। সেখানকার মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে ছোট্ট নৌকাটি নদীতে উল্টে যায়। নিখোঁজদের সন্ধানে গঙ্গায় তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

Continues below advertisement

দুর্ঘটনার পর শোরগোল পড়ে যায় গোটা এলাকায়। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন এখনও। রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) উদ্ধারকারী দল নদীতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। নদীতে নৌকাটি উল্টে যাওয়ার সময় মোট ১৪ জন যাত্রী ছিলেন। নৌকাটি উল্টে যাওয়ার পরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন ও জরুরি পরিষেবা দলগুলো ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিন্তু ২ জন মারা যান। 

উল্লেখ্য, গত মাসেও একই ভাবে দুটো নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। একটি মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে ও অন্যটি উত্তরপ্রদেশের মথুরার বৃন্দাবনে। বিহারের মত এই দুটো ঘটনাও আমাদের চোখে জল এনেছিল। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের ঘটনায় এই মুহূর্তে স্তম্ভিত গোটা দেশ। বার্গি বাঁধের (Bargi Dam) কাছে পর্যটকবাহী নৌকা উল্টে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। ঝড়ের কবলে পড়ে গত ১ মে ২০২৬ তারিখে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর উদ্ধারকাজের সময় উদ্ধারকারীরা এক মা ও তাঁর চার বছরের ছেলের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। যেখানে দেখা যায়, মা তাঁর সন্তানকে শক্ত করে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে আছেন। বৃহস্পতিবার নর্মদা নদীতে হঠাৎ করে ধেয়ে আসা প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে পর্যটকবাহী এই নৌকাটি ডুবে মৃত্যু হয় বহু মানুষের। আরও পড়ুন - সন্তানকে বাঁচাতে লড়াই মায়ের! বুকে জড়িয়েই মৃত্যু, ভিডিও কলে শেষবার কী বলেছিলেন ?

অন্যদিকে,  বৃন্দাবনের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত কেশী ঘাটের কাছে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নিখোঁজ ছিলেন বহু। সকলেই পঞ্জাবের লুধিয়ানার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। লুধিয়ানা থেকে অন্তত ৩০ জনের একটি দল ঘুরতে যায় বৃন্দাবন। যমুনা নদীতে ভ্রমণের জন্য তাঁরা দুটো নৌকা ভাড়া করেন। নদীতে ভ্রমণের সময় সম্ভবত যমুনার ওপর ভাসমান পন্টুন সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি নৌকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং উল্টে যায়। তখনই ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ১৫ জনের মতো পর্যটককে বাঁচানো গেলেও মৃত্যু হয়েছিল ১০ জনের। নিখোঁজ ছিলেন বহু।