চাকরির হাহাকার, অথচ ৬.৮৪ লাখ কেন্দ্রীয় পদ ফাঁকা, বাজেটে পথ দেখাবেন অর্থমন্ত্রী?
ABP Ananda, Web Desk | 01 Jul 2019 10:35 AM (IST)
পরিসংখ্যান মন্ত্রক এ বছরের মে মাসে জানিয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বর্ষে দেশে বেকারত্ব বেড়েছে ৬.১ শতাংশ, যা গত ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ।
নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদি সরকারের সামনে এখন সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান। দেশে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে অথচ চাকরির সুযোগ তেমন নেই। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করল, তাদের বিভিন্ন দফতরে ৬.৮৪ লাখের বেশি পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। পরিসংখ্যান মন্ত্রক এ বছরের মে মাসে জানিয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বর্ষে দেশে বেকারত্ব বেড়েছে ৬.১ শতাংশ, যা গত ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ। অথচ এরই মধ্যে কর্মী মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ ঘোষণা করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে সব মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ছিল ৩৮.০২ লাখ, গত বছর ১ মার্চের মধ্যে ৩১.১৮ লাখ পদ ভরে যায়। কিন্তু এখনও ৬.৮৪ লাখ পদে কর্মী নেই। মন্ত্রী জানিয়েছেন, অবসরগ্রহণ, মৃত্যু, পদোন্নতি সহ নানা কারণে পদগুলি শূন্য পড়ে রয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক, দফতর বা সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী এ বছরই বা প্রয়োজনমত তা পূর্ণ করা হবে। জিতেন্দ্র সিংহ আরও জানিয়েছেন, স্টাফ সিলেকশন কমিশন ১,০৩,২৬৬টি পদ পূরণের জন্য ২০১৯-২০২০-র মধ্যে পরীক্ষা নেবে। রেলওয়ে বোর্ড পূর্ণ করবে ১,৫৬,১৩৮টি পদ। এই পরিস্থিতিতে নয়া অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সামনে চ্যালেঞ্জ এই কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যা মেটানো। বাজেটে তিনি যে বিষয়গুলি নিয়ে মাথা ঘামাবেন, তার মধ্যে বেকারত্বের প্রসঙ্গটি পরথম সারিতেই থাকা উচিত। ২০১৪-য় মোদি সরকার যখন প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছিল বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু কর্মসংস্থান আশানুরূপ হয়নি, গ্রাম-শহর উভয় জায়গাতেই ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সরকারের যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত মাসের শুরুতে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাজেট পূর্ববর্তী বৈঠকে একটি জাতীয় কর্মসংস্থান বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেন, যাতে বেকারত্বর প্রসঙ্গটি যথাযথভাবে সামলানো যায়। ফিক্সড টার্ম এমপ্লয়মেন্ট ও বিভিন্ন শ্রম আইন সংশোধনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে বলেছেন তাঁরা। সেরা অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আর্থিক ঘাটতি যদি বাড়েও, তাহলেও সরকারের উচিত পরিকাঠামোগত কিছু পরিবর্তন এনে দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করা, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি। এই বাজেটেই সীতারামন এ ব্যাপারে যদি তেমন কোনও পদক্ষেপ করার ঘোষণা নাও করেন, তাহলেও তিনি একটি কমিটি তৈরি করে বা তেমন কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির চেষ্টা করতে পারেন। ভারতের এই মুহূর্তে লক্ষ্য বিশ্বের সবথেকে বড় ৫ অর্থনীতির অন্যতম হওয়া ও ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হয়ে ওঠা, অথচ সব থেকে বড় বাধা বেকারত্ব। তাই এই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা ছাড়া আর উপায় নেই।