কলকাতা: আদালত থেকে মামলা উঠে গেলেই ৬৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জন্য তৈরি রাজ্য। ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অন্যদিকে, প্রাথমিক টেট নিয়ে ফের হাইকোর্টে সমালোচিত রাজ্য সরকার। টেটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন বিচরপতির। আগামী ৩১ অগাস্ট টেট মামলার রায়। টেট-এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই যেদিন প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট, সেদিনই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, আদালতের অনুমোদন পেলেই ৬৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জন্য তৈরি রাজ্য। কেন্দ্রের দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায়, প্রশিক্ষণহীনদের প্রাথমিকে নিয়োগে আর যেন সময় দেওয়া না হয়। শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সি এস কারনানের এজলাসে। টেট-এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি জানতে চান, প্রশিক্ষিত এবং অপ্রশিক্ষিতরা কি এক? এঁরা কী করে একই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন? প্রশিক্ষিতদের অধিকারকে কখনও খর্ব করা যায় না। শিক্ষার মান পড়ছে, শিক্ষক নিয়োগ খুব জরুরি। বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, সরকার যা করেছে, সবটাই আইন মেনে। অন্যদিকে, দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে, টেট নিয়ে বিরোধীদের নিশানা করেন তৃণমূলনেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা, কোর্ট থেকে মামলা উঠে গেলেই শিক্ষক নিয়োগ। প্রশিক্ষণহীনদের নিয়োগের ব্যাপারে আরও এক বছর সময় চেয়ে ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ কেন্দ্রকে চিঠি লেখে রাজ্য। উত্তরে কেন্দ্র জানায়, ২০১৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে প্রাথমিকে প্রশিক্ষণহীনদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। কিন্তু, সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায়, আর যাতে নতুন করে সময় দেওয়া না হয় তার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। রাজ্যকে আদালত নির্দেশ দেয়, কেন্দ্রকে পাঠানো চিঠির প্রতিলিপি জমা দিতে। কিন্তু তা দাখিল করতে না পারায় আদালতে ভর্তসিত হয় রাজ্য। পরে হাইকোর্টে রাজ্য জানায়, প্রাথমিকে অগ্রাধিকার পাবে প্রশিক্ষিত-টেট উত্তীর্ণরাই। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন ফের ভর্তসিত রাজ্য। পরবর্তী শুনানি ৩১ অগাস্ট। ওইদিনই প্রাথমিকে টেট মামলার রায়।