কলকাতা:  ঠিক এক সপ্তাহ আগে, ১৩ই নভেম্বর ছিল জন্মদিন।আর ২০ নভেম্বর, সব শেষ। ৭২ বছর বয়সে প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি।  সোমবার বেলা বারোটা দশ নাগাদ দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইট, ১৯৭২ সাল থেকে তিনি বাংলার খুবই জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। প্রায় ৯ বছর ধরে তিনি ছিলেন কোমায়। ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক জীবন কার্যত থেমে গিয়েছিল। না হলে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে আরও অনেক কিছু করতে পারতেন। তিনি বেঁচেছিলেন। কিন্তু, আজ আর নেই। এটা একটা বড় ক্ষতি। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।   গত একমাস ধরে প্রিয়রঞ্জনের অবস্থা ছিল সঙ্কটজনক। গত কয়েকদিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। অবশেষ আজ সব লড়াই শেষ হয়ে গেল। প্রবীণ নেতার মৃত্যুর সময় পাশে ছিলেন স্ত্রী দীপা দাশমুন্সি এবং পুত্র মিছিল। ছাত্র রাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় রাজনীতির হেভিওওয়েট হয়ে উঠেছিলেন প্রিয়রঞ্জন। অধুনা বাংলাদেশে ১৯৪৫ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম। ১৯৭০ থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত ছিলেন রাজ্য যুব কংগ্রেসের সভাপতি। প্রথমবার সাংসদ হন ১৯৭১ সালে। দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। ১৯৮৪ সালে সংসদে যান হাওড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে। ১৯৮৫ সালে প্রথমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। দায়িত্ব পান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর। ১৯৮৯, ১৯৯১, পর পর দুবার হাওড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে হেরে যান প্রিয়রঞ্জন। ১৯৯৬ সালে ফের হাওড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি। এরপর ১৯৯৯ সালের লোকসভা ভোটে, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েও জয়ী হন প্রিয়রঞ্জন। ২০০৪ সালে ফের সেই রায়গঞ্জ থেকে জয়ী।মনমোহন সিংহের মন্ত্রিসভায় পান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন তথ্যসম্প্রচার মন্ত্রী এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ১৯৯৪ সালে দীপা দাশমুন্সিকে বিয়ে করেন প্রিয়রঞ্জন প্রায় ২০ বছর তিনি অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পদে ছিলেন। আচমকাই ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হন প্রিয়রঞ্জন। ভর্তি করা হয় দিল্লির এইমসে পরে তাঁকে এইমস থেকে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রায় ৯ বছর ছিলেন কোমায়। সোমবার বেলা বারোটা নাগাদ অ্যাপালো হাসপাতালে মৃত্যু হয় প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির।