কলকাতা:  ফের শুভাপ্রসন্নর বাড়িতে বিদ্বজ্জনদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুবোধ সরকার, অরিন্দম শীল, ইন্দ্রাণী হালদার, জুন মাল্য সহ অনেকে। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডিলিট প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। ইতিহাস যেন বিকৃত না হয়। আমরা যেন সহিষ্ণুতাকে রক্ষা করি। আর  তার কিছুক্ষণ পর এদিন রাতেই চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্নর বাড়িতে বিদ্বজ্জনদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন তিনি। যা দেখে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামকাণ্ডের মতো এবারও কি ফের বিদ্বজ্জনদের পথে নামার আহ্বান জানাতে চলেছেন তিনি? জল্পনা উস্কে দিয়েছেন বৈঠকে আমন্ত্রিত কবি সুবোধ সরকারের মন্তব্য, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন। নির্দেশ দিলে সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সল্টলেকের বএইচ ব্লকে চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্নর বাড়িতে এদিন আমন্ত্রিত ছিলেন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, ইন্দ্রনীল সেন, কবি সুবোধ সরকার, অরিন্দম শীল,  নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী,  অভিনেত্রী জুন মাল্য,  ইন্দ্রাণী হালদার। তৃণমূল এই বৈঠককে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা বলেই দাবি করছে। সারদাকাণ্ডের পর কার্যত অন্তরালে চলে যাওয়া শুভাপ্রসন্নর বাড়িতে বৈঠক নিয়ে পাল্টা কটাক্ষের সুর বিরোধীদের গলায়। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকণ্ডলীর সদস্য,  সুজন চক্রবর্তী বলেচেন, আবার শুভাপ্রসন্ন।মুখ্যমন্ত্রী আগে পালিয়ে বেড়াতেন। এখন নিশ্চয় তো সেটিং হয়ে গিয়েছে! পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাম আমলের শেষ লগ্নে পরিবর্তনপন্থী বিদ্বজ্জনেরা শুভাপ্রসন্নর বাড়িতেই বৈঠকে বসতেন। অংশ নিতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সময় বদলেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে। রাজ্যে বামেদের সরিয়ে বিরোধী পরিসর দখল করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে বিজেপি। এই প্রেক্ষিতে শুভাপ্রসন্নর বাড়িতে বিদ্বজ্জনদের বৈঠকেও কি মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা থাকবে বিজেপিকে নিয়ে? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।