কলকাতা: আধার কার্ড থেকে নোট বাতিল। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আঘাত থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ। নানা ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিপুল জয়ের পরও অবস্থানে অনড় তিনি। রাজ্য ও জনস্বার্থ বিরোধী যে কোনও ইস্যুতেই মোদী বিরোধী লড়াই যে তাঁর জারি থাকবে, মঙ্গলবার ফের তা বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নজরুল মঞ্চে কৃষি দিবসের অনুষ্ঠানে, নাম না করে নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, গণতন্ত্রে কাউকে গুঁড়িয়ে দেওয়া চলে না। বলেন, কেউ হারে, কেউ জেতে, ক্ষমতা আজ থাকবে, কাল থাকবে না, ক্ষমতা আছে বলে বুলডোজ করব, গণতন্ত্র এটা মেনে নেবে না, লড়াইয়ের ক্ষমতা বাংলার আছে। যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, বাংলা জেগে থাকে। চিন্তার কারণ নেই, মর্যাদার সঙ্গে লড়াই করব। ক্ষমতায় বলিয়ান হওয়ার জেরে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কে যাতে প্রভাব না পড়ে, এদিন সেই বার্তাও দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। এটাই ভাবধারা, এই গণতান্ত্রিক পরম্পরা যেন বজায় থাকে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শেষ কথা বলে জনগণ। আধার কার্ড নিয়েও এদিন ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ২৩টি দফতরে আধার বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্র। ১০০দিনের কাজ থেকে পেনশন। সবকিছুতেই আধার চাই। তোমরা আধার করতে পারনি কেন। মানুষকে খেতে দিতে পাচ্ছি না, কিল মারা গোঁসাই হয়ে যাচ্ছি। উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে পরাজয়ের পর অখিলেশ যাদবের অভিযোগ ছিল, মানুষকে ভুল বুঝিয়েই বাজিমাত করেছে বিজেপি। এদিন কার্যত সেই সুরেই নাম না করে, বিজেপির উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মিথ্যে প্রচার-প্রতিশ্রুতিতে সাময়িক লাভ হতে পারে, কিন্তু চিরস্থায়ী হয় না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নরমে-গরমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন যে, তাঁর দল এবং সরকারকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করলে, তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না।