কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে চার বিচারপতির প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণায় ব্যথিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘আজ সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। সুপ্রিম কোর্টের চারজন মাননীয় প্রবীণ বিচারপতি যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে নাগরিক হিসেবে আমরা দুঃখিত। বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের স্তম্ভ। বিচারব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারে চরম হস্তক্ষেপ গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।’ আজ নজিরবিহীনভাবে সুপ্রিম কোর্টের চার বিচারপতি জে চেলামেশ্বর, বিচারপতি এম বি লোকুর, বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি ক্যুরিয়েন জোসেফ সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ন্যায়সঙ্গতভাবে মামলা বণ্টন করছেন না। তিনি পক্ষপাতিত্ব করছেন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টে আরও অনেক সমস্যা আছে। এই সমস্যাগুলি বজায় থাকলে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের এই সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা এভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের ডেকে মুখ খুললেন। বিচারপতি চেলামেশ্বরের বাসভবনে হয় সাংবাদিক বৈঠক। সেখানে তিনি বলেন, ‘এ এক ব্যতিক্রমী ব্যাপার। কোনও আনন্দের ব্যাপার নয় এটা যে, আমরা সাংবাদিক বৈঠক ডাকতে বাধ্য হলাম। এটা আমাদের কাছে যন্ত্রণার মূহূর্ত। সুপ্রিম কোর্টে সব কিছু ঠিকঠাক চলছে না। শীর্ষ আদালতের প্রশাসন সঠিক ভাবে কাজ করছে না। গত কয়েক মাসে এমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা কাঙ্খিত নয়।’ বিচারপতি চেলামেশ্বর আরও বলেছেন, ‘আমাদের চার বিচারপতির মনে হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের প্রতিও এটা আমাদের কর্তব্য যে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের গোচরে আনা যে সব কিছু ঠিক নেই। আজ সকালেও তাঁর সঙ্গে দেখা করে বিষয়গুলি তাঁকে জানাই। কিন্তু আমরা তাঁকে এটা বোঝাতে পারিনি, ব্যর্থ হয়েছি।’