বোড়াল: অপরাধমূলক কাজকর্ম ঘিরে এলাকায় জনরোষ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। শনিবার এক প্রতিবাদীকে রাস্তার ওপর গুলি করার ঘটনা ঘিরে সেই জনরোষ আছড়ে পড়ল বোড়ালের রাস্তায়। যাদের প্রশ্রয়ে এলাকায় দুষ্কৃতী বাড়বাড়ন্তের অভিযোগ, তাদের বাড়ি ও অফিসে ভাঙচুর চালাল ক্ষিপ্ত জনতা। ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাত থেকে। স্থানীয় সূত্রে খবর, অমিত ঘোষ নামে এক স্থানীয় যুবক রাতে বাইক নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। মাঝরাস্তায় সরলদিঘির কাছে বাইকের জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনি বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, আচমকাই রাতের অন্ধকার ফুঁড়ে বাইক নিয়ে সেখানে হাজির হয় শ্যামল ও বাপ্পা নামে যুই যুবক। কোনও কথা না বলে তারা অমিতকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বনাথ শীল সহ কয়েকজন এই দৃশ্য দেখতে পেয়ে অমিতকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ান তাঁরা। এককাট্টা প্রতিবাদের মুখে সেখান থেকে চম্পট দেয় হামলাকারীরা। অভিযোগ, এরপর কিছুক্ষণ পরই শ্যামল ও বাপ্পা হাতে রিভলভার নিয়ে মোটরবাইকে চড়ে ফিরে আসে। আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে জনে জনে প্রশ্ন করতে থাকে বিশ্বনাথ কোথায়? বিশ্বনাথ তখন বোড়ালের ভট্টাচার্য পাড়ার কাছে দাঁড়িয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে সটান তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় শ্যামল, বাপ্পারা। তারপরই রিভলভার বার করে বিশ্বনাথকে গুলি করে। গুলি লাগে তাঁর পেটে। স্থানীয় বাসিন্দারাই বিশ্বনাথকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে হাসপাতালে নিয়ে যান। আপাতত তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসএসকেএমে ভর্তি। প্রতিবাদী বিশ্বনাথের গুলিবিদ্ধ হওয়ার এই খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বোড়ালবাসী। শ্যামল, বাপ্পাদের বিরুদ্ধে এলাকায় জনরোষ ছিলই। এই খবরে যেন বারুদের স্তূপে ফুলকি পড়ে। রবিবার সকাল থেকে অভিযুক্তদের বাড়ি ও অফিসে ভাঙচুর চালায় ক্ষিপ্ত জনতা। জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ আপাতত অভিযুক্ত শ্যামলকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু রয়েছে।