কলকাতা:  ১ জুলাই থেকে চালু হচ্ছে জিএসটি। তার আগে চরমে কেন্দ্রের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাত। শুক্রবার মধ্যরাতের জিএসটি-র সূচনা অনুষ্ঠান বয়কট করছে তৃণমূল। একই পথে হাঁটছে সিপিএম। সূত্রের খবর, রণকৌশল নির্ধারণে কাল বৈঠকে বসছে কংগ্রেস। ৭০ বছর পর পণ্য পরিষেবা কর বা জিএসটি চালু উপলক্ষ্যে শুক্রবার মধ্যরাতে সংসদের সেই সেন্ট্রাল হলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মোদী সরকার। সূত্রের দাবি, বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ আমন্ত্রিত থাকলেও, একমাত্র বক্তব্য রাখবেন নরেন্দ্র মোদী। আর এই প্রেক্ষাপটেই শুক্রবারের মধ্যরাতের এই বিশেষ অনুষ্ঠান বিরোধীদের একাংশ বয়কট করবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে! সেই জল্পনা উস্কে দিয়ে বিরোধীদের মধ্যে সর্বপ্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন, তৃণমূল জিএসটি চালুর এই অনুষ্ঠান বয়কট করছে। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, তৃণমূলের সংসদীয় দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ৩০ জুন মধ্যরাতের অধিবেশনে তারা অংশ নেবে না। এটাই আমাদের প্রতিবাদের পন্থা। পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা জিএসটি মানি না। ২০ দফায় আপত্তি জানিয়েছি। আমরা চাইছি, কেন্দ্র প্রত্যাহার করুক। আপত্তি থাকলেও জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও লিখেছেন, জিএসটি চালু করা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। নোট বাতিলের পর অপ্রয়োজনীয় এবং ধ্বংসাত্মক দ্রুততায় জিএসটি চালু করা কেন্দ্রের মহাকাব্যিক ভুল। সিপিএমও মোদীর মধ্যরাতের অনুষ্ঠান বয়কট করছে। এবার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কংগ্রেস কী করবে? কারণ, কংগ্রেসের একাংশের বক্তব্য, মোদী চাইছেন মধ্যরাতের অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে নিজেকে নেহরুর সমপর্যায়ে নিয়ে যেতে! তাই পুরো অনুষ্ঠানটাই মোদী-ময় করার চেষ্টা হচ্ছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, আদতে জিএসটি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের মস্তিষ্কপ্রসূত। কংগ্রেসের কেউ কেউ এমনটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০১১ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার যখন জিএসটি কার্যকরের জন্য সংবিধান সংশোধনী আনতে চেয়েছিল, তখন তার তীব্র বিরোধিতা করেছিল গুজরাত সরকার। সেসময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এই নরেন্দ্র মোদী। কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, আমরাই প্রথম করেছিলাম। এখন চমক দিতে এসব করছে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস শুক্রবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে কি না, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন সনিয়া গাঁধী, মনমোহন সিংহ, পি চিদম্বরম, গুলাম নবি আজাদরা। যদিও, বিজেপি জিএসটি কার্যকরের অনুষ্ঠানে সমারোহের কোনও ঘাটতি রাখতে চাইছে না। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অনন্ত কুমার বলেন, সব সাংসদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কাউন্সিল সদস্যদেরও বলা হয়েছে। সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছি। এই পরিস্থিতিতে মোদীর মেগা শোয়ের রাতে বিরোধীদের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।