শরীরের যে কোনওরকম অস্বস্তির সঙ্গে গ্যাস-অম্বলের সম্পর্ক খুঁজে নেওয়ার অভ্যেস অনেকের। ডাক্তার না দেখিয়েই বহুজনই নিয়মিত অম্বলের ওষুধ খেয়ে থাকেন। এবার সেই ওষুধেই ক্যান্সারের ঝুঁকি খুঁজে পেল Central Drugs Standard Control Organisation (CDSCO)। তড়িঘড়ি এই ওষুধ নিয়ে সতর্ক করা হল সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে। গ্যাস-অম্বলের চালু ওষুধ র্যানিটিডিন নিয়ে মাঝেমধ্যেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। এবার ফের অম্বলের বহু ব্যবহৃত ওষুধ র্যানিটিডিনের উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিয়ে রাজ্যগুলিকে সতর্ক করল CDSCO। এই গ্রুপের ওষুধ ভারতে Rantac, Aciloc, and Radin ইত্যাদি নামে বিক্রি হয়।
তবে এই নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। তবে নতুন করে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর রেনিটিডিন ওষুধে এনডিএমএ (N-Nitrosodimethylamine) নামে একপ্রকার রাসায়নিক যৌগের কথা উল্লেখ করে সিডিএসসিও সতর্ক করেছে রাজ্য গুলিকে। কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে বলা হয়েছে যেন এই বহুল ব্যবহৃত ওষুধটির API পরীক্ষা করা হয়। সেই সঙ্গে ওষুধটির ফর্মুলেশনে রাসায়নিকের মাত্রা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে। সেই সঙ্গে ওষুধটির মেয়াদ কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সূত্রের খবর গত ২৮শে এপ্রিল রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ড (DTAB)র একটি সভায় এই সংক্রান্ত একটি সুপারিশ করা হয়। তার ভিত্তিতেই ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল (DCGI), ডঃ রাজীব সিং রঘুবংশী এই পদক্ষেপ নেন।
রেনিটিডিন নিয়ে নানা অভিযোগ বারবার ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। এবার রেনিটিডিন সম্পর্কিত কিছু অভিযোগ পেয়ে তা পরীক্ষা করে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় এক বিশেষজ্ঞ দলকে। সেই এক্সপার্ট টিম যে রিপোর্ট জমা করেছে, তা পর্যালোচনা করে DTAB। এরপর আরও একটি বৃহত্তর কমিটি গঠন করে বিষয়টি নিয়ে আরও খতিয়ে দেখতে বলা হয়। ওই ওষুধ কীভাবে স্টোর হচ্ছে, তার দরুণই কি এই ওষুধে N-nitrosodimethylamine (NDMA)তৈরি হচ্ছে ? খতিয়ে দেখতে বলা হয় সেই বিষয়টিও। এছাড়াও এই বিষয়ে সবদিক পর্যালোচনা করে দেখতে বলা হয়েছে ICMRকে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির এইমসের অনকোলজিস্ট ডা. অভিষেক শঙ্করের মতে, এই ওষুধ গ্রুপ 2A কার্সিনোজেন বিভাগে পড়ে। সেক্ষেত্রে ফ্যামোটিডিন এবং প্যান্টোপ্রাজলের বিকল্প ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। দরকার কি রেনিটিডিন প্রেসক্রাইব করার ?
উল্লেখ্য কোনও ওষুধে NDMA থাকলে তা মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর ও ক্যান্সার ঝুঁকিবহনকারী হিসেবেই বিবেচ্য। কয়েক বছর আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বেশ কয়েকটি বাজার থেকে রেনিটিডিন ব্যবহার বন্ধ করা হয়। তাই এই পরিস্থিতিতে CDSCO-র নির্দেশ, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে ওষুধের মেয়াদ কমানো, সংরক্ষণের নিয়মে পরিবর্তন আনা এবং NDMA-র উপস্থিতির উপর নজর রাখা দরকার।