কলকাতা : ১৩ মে প্রকাশিত হয়েছে CBSE-র দ্বাদশের পরীক্ষার ফলাফল। আর এরপর শুরু হয়েছে বিতর্ক। খারাপ ফলাফল এবং কম পাসের হার নিয়ে আগেই পরীক্ষার্থীদের মধ্য়ে একটা ক্ষোভ ছিলই। কারণ, এবারের মোট পাশের হার ৮৫.২০ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবারে পাশের হার ৩.১৯ শতাংশ কমে গিয়েছে। এবার উত্তরপত্রের যে স্ক্য়ানড কপি ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরীক্ষার্থীদের অনেকে। যদিও CBSE-র তরফে দাবি করা হয়েছে , উত্তরপত্রের স্ক্য়ান যথাযথভাবে হয়নি বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা তথ্য়গতভাবে ঠিক নয়। 

Continues below advertisement

লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্য়ৎ নির্ভর করে এই পরীক্ষার ফলের ওপর। কিন্তু সেই CBSE-র দ্বাদশের খারাপ ফল এবং পাসের হার কমা নিয়ে বিতর্ক একেবারে তুঙ্গে। ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ছাত্র-ছাত্রী থেকে অভিভাবক, সকলের মধ্যেই। আগে এই পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষকরা নিজে খাতা দেখতেন। এবার নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে খাতা দেখা হয়। যার পোশাকি নাম - ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ বা OSM। বহু পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, ডিজিটাল মূল্যায়নের কারণেই এবছরের পাসের হার কমেছে এবং প্রত্যাশার তুলনায় নম্বরও অনেক কম এসেছে। তবে, CBSE-র তরফে জানানো হয়, পড়ুয়ারা পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি নিজেরা দেখতে পারবেন। সেই মতো আবেদন করার পোর্টালও খোলা হয় বোর্ডের তরফ থেকে। কিন্তু, সেখানেও বাধে গন্ডগোল! অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ বোর্ডের তরফে দেওয়া আবেদনের ওয়েবসাইট একবারের জন্যও খোলেনি। কেউ লগ ইন করতে পারছিলেন না। কারও ‘ভেরিফিকেশন অ্যান্ড স্ক্যানড কপি অ্যাপ্লিকেশন’ উইন্ডো খুলছিল না বলে অভিযোগ।

এরপর পরীক্ষার্থীদের যে উত্তরপত্রের স্ক্য়ানড কপি দেওয়া হয়, তা নিয়েও শুরু হয় নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, উত্তরপত্রের স্ক্য়ানড কপিটি একেবারে ঝাপসা। খুব কষ্ট করে নাকি তা দেখতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার উত্তর বোঝাই যাচ্ছে না। এখানেই উঠছে প্রশ্ন, যে শিক্ষকরা খাতা দেখেছেন তাঁদের কাছেও কি তবে ঝাপসা কপিই গেছে? এরকম ঝাপসা স্ক্য়ানড কপি দেখে তাঁরা দেখে নম্বর দিলেন কীকরে? কারণ, ছাত্ররাই ঠিক ভাবে দেখতেই পাচ্ছেন না, তবে শিক্ষকরা দেখলেন কীভাবে?

Continues below advertisement

উত্তরপত্র স্ক্য়ানিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এক টেকনিশিয়ানের সঙ্গে ছাত্রী বলে পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন এবিপি আনন্দর প্রতিনিধি। কথায় কথায় সেই টেকনিশিয়ান দাবি করেছেন, যে সফটওয়্য়ারে এই কাজ হয়েছে, তা অত্য়ন্ত নিম্নমানের। তিনি জানান, '' সফটওয়্য়ার একেবারে সাধারণ ছিল। কোনও ডিপ্লোমা ডিগ্রি পাওয়া বাচ্চাও এর চেয়ে ভাল ডিজাইন করবে।'' 

এবিপি আনন্দসফটওয়্য়ার এতটা খারাপ ছিল?

টেকনিশিয়ান'একটা বাচ্চাও এর থেকে ভাল বানিয়ে দেবে। ঠিকমতো কাজ করছিল না সফটওয়্য়ার। আটকে যেত। হার্ডওয়্য়ার খারাপ মানের ছিল। ৪-৫টা কম্পিউটার তো ক্র্য়াশ করে গেছিল।' 

এবিপি আন্দসফটওয়্য়ারে এত সমস্য়া ছিল?

টেকনিশিয়ান সমস্য়া ছিল, সফটওয়্য়ার ঠিক মতো ডেভলপ করা হয়নি।

এবিপি আনন্দএকবারে কপি স্ক্য়ান হয়ে যেত?

টেকনিশিয়ানহয়ে যেত, কিন্তু ক্র্য়াশ করে যেত। টানা এক-দেড় ঘণ্টা স্ক্য়ান করলে ক্র্য়াশ করে যেত। আটকে যেত।

এবিপি আনন্দআটকে গেলে কী হত?

টেকনিশিয়ানঅর্ধেকটা স্ক্য়ান হয়ে ফেরত চলে আসত। পুরোটা স্ক্য়ানের পর আপলোড না হলে পুরোটা গায়েব হয়ে যেত। তখন আবার স্ক্য়ান করতে হত।

এবিপি আনন্দএই জন্য়ই কি রেজাল্টে দেরি?

টেকনিশিয়ানদেরি হয়েছে, কারণ স্ক্য়ানিং-এর কাজ দেরিতে শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। অভিভাবক থেকে পরীক্ষার্থী, অনেকের প্রশ্ন, যে পরীক্ষার ওপর লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্য়ৎ দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে এরকম সফটওয়্য়ার ব্য়বহার করা হল কী করে? যদিও, এই বিষয় নিয়ে CBSE-র তরফে সোশাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে, নতুন পদ্ধতি, অর্থাৎ OSM পদ্ধতিতে উত্তরপত্রের স্ক্য়ান যথাযথভাবে হয়নি বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা তথ্য়গতভাবে ঠিক নয়। এটি ভুল ধারণা।