কলকাতা: শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের জনগণনার প্রথম ধাপ। এবারই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হতে চলেছে ভারতের জনগণনা, যেখানে প্রথম ১৫ দিন সাধারণ মানুষ নিজেরাই অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই 'সেল্ফ এনুমারেশন' পর্বে পরিবারের সদস্যদের তথ্য, বাসস্থানের বিবরণ-সহ একাধিক তথ্য সরকারি পোর্টালে নথিভুক্ত করা যাবে। এরপর নির্ধারিত সময়ে গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন। নতুন এই পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণনার কাজ আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

Continues below advertisement

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারি জানিয়েছেন, কাল থেকেই শুরু হচ্ছে জনগণনা, প্রথম ১৫ দিন চলবে সেল্ফ এনুমারেশন। ১ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে প্রক্রিয়া। se.census.gov.in এই ওয়েবসাইটে চলবে সেল্ফ এনুমারেশন। সকাল ১০টার পর থেকে অনলাইনে চলবে সেল্ফ এনুমারেশন। ১৬ অগাস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িতে বাড়িতে চলবে ভেরিফিকেশন। 

দুই ধাপে হবে জনগণনা

Continues below advertisement

২০২৭ সালের জনগণনা দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে।

প্রথম ধাপ: গৃহ তালিকা প্রস্তুতিকরণ (House Listing) ও গৃহগণনা। এই পর্যায়ে প্রতিটি বাড়ি এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: জনসংখ্যা গণনা (Population Enumeration)। এই ধাপে পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত ও জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

ডিজিটাল Self Enumeration-এর মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেরাই নির্ভুল তথ্য জমা দিতে পারবেন। এতে তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে, ভুলের সম্ভাবনা কমবে এবং জনগণনার পুরো প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ হবে। তাই পোর্টাল চালু হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সঠিক তথ্য দিয়ে Self Enumeration সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কবে থেকে শুরু হবে Self Enumeration?

যে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে গৃহ তালিকাভুক্তকরণের কাজ শুরু হবে, তার ১৫ দিন আগে থেকেই Self Enumeration Portal চালু করা হবে। ফলে নাগরিকরা চাইলে আগে থেকেই নিজেদের তথ্য অনলাইনে জমা দিতে পারবেন।

১ আগস্ট ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের ২০২৭ সালের জনগণনার প্রথম ধাপ। এটি স্বাধীনতার পর ১৬তম জনগণনা এবং স্বাধীন ভারতের ৮ম জনগণনা। এবারের জনগণনা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর। গণনাকারীদের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রথম জনগণনায় জাতিভিত্তিক (Caste) তথ্যও সংগ্রহ করা হবে, যা দীর্ঘদিন পর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণের পরিকল্পনা তৈরি করে। লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) এবং সরকারি সম্পদের বণ্টনের ক্ষেত্রেও জনগণনার তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজনে অফলাইন পদ্ধতিও থাকবে। তথ্য সংগ্রহে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করবেন গণনাকারীরা। তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে বিশেষ ডিজিটাল সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।