দিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দিন দিন ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। আর এর খারাপ প্রভাব পড়ছে সারা বিশ্বে। বর্তমানে গ্যাসের সঙ্কটের চিত্র বিশ্বের বহু দেশে দেখা দিয়েছে। টান পড়েছে এলপিজি-র জোগানেও। যদিও কেন্দ্র সরকার গ্যাস নিয়ে গ্রাহকদের চিন্তা করতে বারণ করেছে। ভারতে এলপিজির মজুত থাকার কারণে এই মুহূর্তে কোনও বড় সমস্যা দেখা দিচ্ছে না। তবে, এই আবহে সারা দেশে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা ভেবে আবারও বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের।
সারা দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বস্তি দিতে ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। ২ ও ৩ মার্চের মধ্যে সরবরাহ করা গড় দৈনিক সিলিন্ডারের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে পরিযায়ী শ্রমিকদের দেওয়া ৫ কেজি ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডারের পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা করেছে সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ৫ কেজি এফটিএল সিলিন্ডারগুলি (FTL cylinder) রাজ্য সরকার বা রাজ্যের ফুড অ্যান্ড সিভিল সাপ্লাইজ় ডিপার্টমেন্টের (state’s Food/Civil Supplies Department) অধীনে থাকবে। এই বিভাগ সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলির সাহায্যে শুধুমাত্র নিজের রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের সিলিন্ডার সরবরাহ করবে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, '' ২০২৬ এর ২-৩ মার্চ, সময়কালে পরিযায়ী শ্রমিকদের গড় দৈনিক সিলিন্ডার সরবরাহের উপর ভিত্তি করে প্রতিটি রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৫ কেজি এফটিএল সিলিন্ডারের দৈনিক পরিমাণ দ্বিগুণ করা হচ্ছে।"
কারা পাবেন এই সুবিধা?
আগে LPG সিলিন্ডার নেয়ার ক্ষেত্রে ডিস্ট্রিবিউটারের কাছে গিয়ে পরিচয়পত্র এবং সেল্ফ ডিক্ল্যারেশন দিতে হত। তবে, এই ফ্রি ট্রেড এলপিজি কেনার ব্যাপারে কিছু শর্ত রেখেছে কেন্দ্র। কোন কোন শ্রেণীর লোকেরা এই সুবিধা পাবে সেই বিষয়েও স্পষ্ট জানান হয়েছে। সেগুলো হল - ১. এই ধরনের সিলিন্ডার কেনার জন্য কোনও ঠিকানার নথি লাগবে না। ২. পরিযায়ী শ্রমিকরা এই সুবিধা পাবেন। ৩. পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশাপাশি, অন্য রাজ্যে পড়াশোনা করা পড়ুয়ারাও এই সুবিধা পাবেন। ৪. এই সুবিধা পাবেন দিনমজুররাও।
গ্যাস সঙ্কট নিয়ে কী জানাচ্ছে সরকার ?কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বার বার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, দেশে এলপিজির সঙ্কট নেই। দেশের মানুষদের ও গ্রাহকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা বা অপ্রয়োজনীয় LPG বুকিং না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনও ভুয়ো খবরে কান না দিয়ে তথ্যের জন্য শুধুমাত্র সরকারি সূত্র ও ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছে।
