সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের' একটি প্রতিবেদন। আর তাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে দেশজুড়ে যাবতীয় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিরোধী শিবির তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন। রাজধানীর বুকে আন্দোলনে শামিল হয়েছে জেন জি। যাকে কেন্দ্র করে ফি দিন সরগরম হয়ে উঠছে দিল্লি। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। আর এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁকে নিয়েই যাবতীয় চর্চা। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জ্ঞানেশ কুমারের শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে একাধিক অসাধারণ ডিগ্রি রয়েছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

Continues below advertisement

১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস অফিসার জ্ঞানেশ কুমার আবার আইআইটি কানপুরের প্রাক্তনী। উত্তর প্রদেশের শ্রেণিকক্ষ থেকে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর শিক্ষাজীবন। ১৯৬৪ সালে জন্ম। উত্তর প্রদেশের আগ্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত জ্ঞানেশ কুমার। ওই রাজ্যেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা-গ্রহণ। তিনি গোরক্ষপুর, লখনৌ ও কানপুরে পড়াশোনা করেছিলেন। 'দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ‘বোর্ড অফ হাই স্কুল অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়েট এডুকেশন, উত্তর প্রদেশ’ পরিচালিত পরীক্ষায় ১৯৭৯ সালে হাই স্কুল এবং ১৯৮১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেছিলেন। 

২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে নিজের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘কলভিন তালুকদার কলেজ’ পরিদর্শনের সময় জ্ঞানেশ কুমার এই শহরকে তাঁর 'তপোভূমি' বলে অভিহিত করেছিলেন। লখনৌয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি জানান যে, তিনি সেখানে পড়াশোনা করেছিলেন এবং দীর্ঘ সময় জনসেবায় নিয়োজিত থাকার পর উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতেই সেখানে ফিরেছেন।

Continues below advertisement

লখনউ থেকে জ্ঞানেশ কুমার কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (আইআইটি) যান এবং সেখানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ‘ব্যাচেলর অফ টেকনোলজি’ (বি.টেক.) ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তালিকায় তাঁকে ১৯৮৫ সালের বি.টেক./সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাচের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বছরেই তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়েই তাঁর পড়াশোনা শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর আইআইটি কানপুরের অফিসিয়াল প্রোফাইল অনুযায়ী, জ্ঞানেশ কুমার ভারতের আইসিএফএআই-তে বিজনেস ফাইন্যান্স এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির হার্ভার্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (এইচআইআইডি)-তে এনভায়রনমেন্টাল ইকোনমিক্স নিয়েও পড়াশোনা করেছেন। 

২০২৫ সালের নভেম্বরে, আইআইটি কানপুর তাদের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাঁকে 'বিশিষ্ট প্রাক্তন শিক্ষার্থী পুরস্কার' দেয়। ১৯৮৯ সালে প্রবর্তিত এই সম্মাননাটি সমাজ ও জাতির প্রতি অসামান্য কৃতিত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়।

জ্ঞানেশ কুমারের কর্মজীবনের পরবর্তী অধ্যায়টি শুরু হয় ১৯৮৮ ব্যাচের সদস্য হিসেবে ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে (আইএএস) তাঁর যোগদানের মধ্য দিয়ে, যেখানে তাঁকে কেরল ক্যাডারে নিযুক্ত করা হয়েছিল। কেরলে তাঁর দায়িত্বগুলির মধ্যে ছিল কোচিন কর্পোরেশনের মিউনিসিপ্যাল ​​কমিশনার, কেরল স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের এমডি, এর্নাকুলামের জেলাশাসক, গোশ্রী আইল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সচিব, ত্রিবান্দ্রম বিমানবন্দর উন্নয়ন সমিতির এমডি এবং নয়াদিল্লিতে কেরল হাউসের রেসিডেন্ট কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।

পরবর্তীকালে জ্ঞানেশ কুমার ভারত সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদ অলঙ্কৃত করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জম্মু-কাশ্মীর ও অযোধ্যা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি তাঁর কার্যকালের সমসাময়িক ছিল। ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর, ১৫ মার্চ ২০২৪-এ নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। এই পদে থেকে তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এই পদে আসীন ২৬তম ব্যক্তি হন।