China News : বদলে যেতে পারে বিশ্বের ভাবনা। ক্লিন এনার্জি বা কার্বনমুক্ত শক্তি উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ নিল চিন। এবার কৃত্রিম সূর্য তৈরি করছে বেজিং। সম্প্রতি সেই উদ্যোগে প্রথম সাফল্য পেয়েছে দেশ। বিশ্বের সবথেকে বড় ফিউশন ম্যাগনেট তৈরি করেছে চিন। বেজিংয়ের দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমাহীন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে তারা।

Continues below advertisement

কী এমন আলাদা তৈরি করছে চিন ?বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ফিউশন ম্যাগনেটের মাধ্যমে বিশ্বের সবথেকে বড় ক্লিন এনার্জির হাব তৈরি হবে চিনে। যা ভবিষ্যতে কার্বন মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে বিশ্বকে সাহায্য করবে। চিনের 'চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস'-এর 'ইনস্টিটিউট অফ প্লাজমা ফিজিক্স' তৈরি করেছে এই সুপার কন্ডাক্টিং ম্যাগনেট। ২১ মিটার লম্বা, ১২ মিটার চওড়া, ৫৮২ টন ওজন রয়েছে এই ম্যাগনেটের।

কী এই কৃত্রিম সূর্যআসলে কৃত্রিম সূর্য হল নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়্যাক্টর। সূর্যের মধ্যে শক্তি বা তাপ উৎপন্ন হওয়ার জন্য যে বিক্রিয়া ঘটে, সেই একই প্রক্রিয়ায় এখানেও বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। এই ফিউশন রিয়্যাক্টরের মাধ্যমে সূর্যের মতোই এখানে ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসে হাইড্রোজেন সংযোজন ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে চিন।

Continues below advertisement

কোনও কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হবে না

সবথেকে বড় বিষয়, এই বিশাল শক্তিযজ্ঞে কোনও কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হবে না। নতুন বিশ্বে যা বিশাল কার্যকর হতে পারে। তবে এখনই এই টেকনোলজিতে সাফল্য পায়নি চিন। আরও কিছু বাধা টপকাতে হবে বেজিংকে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর থেকে কার্বনমুক্ত সীমাহীন বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারবে চিন।

নিউক্লিয়ার ফিউশন আসলে কীমহাবিশ্বে প্রতিটি নক্ষত্রই নিউক্লিয়ার ফিউশনের মাধ্যমেই সক্রিয় থাকে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে। প্রতিটি নক্ষত্রের ক্ষেত্রেই এই বিপুল চাপ ও তাপ থাকে। সেখানেই নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া ঘটে থাকে। উদাহরণ হিসাবে আপনি বলতে পারেন সূর্যের কথা। যেখানে সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা থাকে ১৫ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় প্রচন্ড চাপের ফলে হাইড্রোজেন থেকে হিলায়াম তৈরি হয়। যা থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি ও তাপ আকারে নির্গত হয়। এবার সেই প্রযুক্তির প্রস্তুতিতে একধাপ এগোল চিন।

আরও পড়ুন : আসছে ১০,২০ টাকার প্লাস্টিকের নোট, বন্ধ হবে কাগজে