উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত বহিষ্কৃত বিজেপি নেতা কুলদীপ সেঙ্গারের ধাক্কা। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চে। মূল অভিযুক্ত কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারকে এখনই জামিন নয়, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা খারিজের নির্দেশে স্থগিতাদেশ।

Continues below advertisement

এর আগে কুলদীপ সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা খারিজ করেছিল দিল্লি হাইকোর্ট। রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল CBI। ২০১৭-র ৪ জুন এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মূল অভিযুক্ত ছিলেন বাঙ্গেরমউ কেন্দ্রের ৪ বারের বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গার। ১৩ এপ্রিল ২০১৮, কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। কুলদীপ সিং সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা মঙ্গলবার খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে সিবিআই। ২০১৭ সালের উন্নাও ধর্ষণ মামলায় কুলদীপকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতেই দিল্লি গেটের সামনে ধর্নায় বসেন নির্যাতিতা, তাঁর মা ও এক সমাজকর্মী। ২০১৭ সালে নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ।

Continues below advertisement

জামিন খারিজ করে চরমতম শাস্তি দিতে হবে দোষী সাব্যস্ত এবং বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারকে। এই অভিযোগে ফের সরব হয়েছিলেন উন্নাওকাণ্ডে নির্যাতিতার মা। দিল্লি হাইকোর্ট ন্যায় বিচার দিতে পারেনি, সুপ্রিম কোর্টে ভরসা আছে। উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত এবং বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারের জামিনের বিরোধিতা করে মন্তব্য নির্যাতিতার। ধর্ষকদের জামিন, এবং নির্যাতিতার সঙ্গে অপরাধীদের মতো আচরণ করা - এটি কেমন ন্যায়বিচার? X হ্যান্ডলে প্রশ্ন তুললেন রাহুল গান্ধী। সেই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে এদিন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন দুই আইনজীবী।   

উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত এবং বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারের জামিনের নির্দেশের পর চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নির্যাতিতা। ২০১৭-র জুন মাসে, নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালে বিচার না পাওয়ার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আত্মহত্যার হুমকি দেন নির্যাতিতা। 

তখনই গোটা বিষয়টি সামনে আসে। কিনতু, এরপর ভারতীয় দণ্ডবিধির অস্ত্র আইনে নির্যাতিতার বাবাকেই গ্রেফতার করা হয়। উন্নাও জেলে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় নির্যাতিতার বাবার। দেশজোড়া তীব্র সমালোচনার মুখে, ২০১৮-র ১৩ এপ্রিল কুলদীপ সেঙ্গারকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্ত শুরু করে CBI। সেবছর, ২৮ জুলাই রায়বরেলি আদালতে যাওয়ার পথে নির্যাতিতার গাড়িতে ধাক্কা মারে একটি ট্রাক। ট্রাকের ধাক্কায় ধর্ষণ-মামলার সাক্ষী, নির্যাতিতার দুই কাকিমা মারা যান। 

গুরুতর জখম হন নির্যাতিতা ও তাঁর আইনজীবী। এরপর উত্তরপ্রদেশ থেকে উন্নাওয়ের ৫টি মামলা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে।

২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত, প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় দিল্লির তিস হাজারি আদালত। মঙ্গলবার, দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেওয়ার পর নির্যাতিতা, তাঁর মা এবং নারী অধিকার কর্মী যোগিতা ভায়ানা ইন্ডিয়া গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। তাঁদের জোর করে সেখান থেকে পুলিশ সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।