নয়া দিল্লি: একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এক অভিযুক্তকে। এরপরই বেনজির ঘটনা। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই বিচারকের দিকে আঙুল তুলে হুঁশিয়ারি, “তুই কে রে? বাইরে বেরো, দেখছি কীভাবে তুই বেঁচে বাড়ি ফিরিস।” শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে চলতে থাকে অকথ্য গালিগালাজ।  বিচারককে লক্ষ্য করে ভারী কিছু ছুড়েও মারে সে। দিল্লির এক আদালতের এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যান এজলাসে উপস্থিত অন্য আইনজীবী ও কর্মীরা।

গত ২ এপ্রিলের ঘটনা। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবাঙ্গী মাঙ্গলার এজলাসে একটি চেক বাউন্সের মামলার শুনানি চলছিল। সেই মামলায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি ঘোষণা করেন বিচারক। রায় ঘোষণার পরেই কার্যত খেপে ওঠে ওই আসামি। প্রথমে বিচারককে লক্ষ্য করে কিছু ছুড়ে দেয় সে। এরপর এজলাসেই আইনজীবীকে সে বলে, রায় বদলানোর জন্য যা দরকার, তা করা হোক। এসব চলার মধ্যে মহিলা বিচারককে খুনের হুমকিও দেয়।                                                                

আদালতের নির্দেশনামাতেও আসামির ওই কু-মন্তব্যের উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনামায় উল্লেখ, রায় নিজের পক্ষে না যাওয়ার পরেই বিচারকের উপর রাগ উগরে দেন অভিযুক্ত। তিনি বিচারককে হেনস্থা করতে শুরু করেন। বিচারকের মায়ের বিরুদ্ধেও হিন্দিতে কিছু মন্তব্য করেন।

নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত এবং তাঁর আইনজীবী বিচারককে মানসিক এবং শারীরিক ভাবে হেনস্থার চেষ্টা করেন। অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস না-করা হলে বিচারককে জোর করে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হবে, এমনও দাবি করেন তাঁরা। তবে এই পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন বিচারক।                                       

শেষে নিজের আইনজীবীর উদ্দেশে অভিযুক্ত যে কোনও উপায়ে রায়কে নিজের পক্ষে আনার জন্য। এর পরে তাঁরা দু’জনেই বিচারককে হেনস্থা করতে শুরু করেন। এই বিষয়টি জাতীয় মহিলা কমিশনের নজরে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিচারক। এছাড়া ওই আসামির আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেন দিল্লি হাইকোর্টে ফৌজদারি মামলা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে শোকজ নোটিসও পাঠানো হয়েছে।