সিঙ্গাপুর ও হংকং এর সঙ্গে এ দেশেও চুপিসারে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত এর সংখ্যা। প্রথম করোনা ঢেউয়ের মতোই এবারেও কোভিডে বেশি আক্রান্ত কেরল, মহারাষ্ট্র। প্রতিদিন নতুন নতুন আক্রান্তের হদিশ মিলছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। এরই মধ্যে মহারাষ্ট্রে সংক্রমণ নিয়ে চিন্তার ছবি। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর,   বুধবার নতুন করে মহারাষ্ট্রে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ জন। 

গুজরাতে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের ১৫ টি নতুন কেস পাওয়া গিয়েছে। সরকার জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ারই পরামর্শ দিয়েছেন। প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে, ভাইরাসের এই নতুন রূপটি ততটা গুরুতর নয়। সমস্ত রোগীর বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে। 

ওদিকে গুরুগ্রামে করোনার দুটি নতুন কেস সামনে এসেছে।  ৩১ বছর বয়সী এক মহিলা মুম্বই থেকে ফিরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীক্ষা করা হলে, তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া যায়।

মহারাষ্ট্র, কেরলের এই পরিস্থিতি দেখে অন্ধ্র প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণের জন্য একটি পরামর্শ জারি করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের জনস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর একটি নির্দেশিকায় , বর্তমানে করোনার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে স্বাস্থ্য জনগণকে সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ করেছে। ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার আটকাতে জনসাধারণকেই সতর্ক হতে হবে,পুরনো কোভিড বিধিগুলি একবার ঝালিয়ে নিতে হবে। অন্ধ্রের প্রশাসন মনে করছে, এখন থেকে আবার  নিয়মিত হাত ধোয়া, কাশি এবং হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা এবং বারবার মুখে হাত না-দেওয়া  ইত্যাদি অভ্যেসগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে।  এছাড়া আরও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে যেসব জায়গায় ভিড় বেশি বা বায়ুচলাচল তেমন করে না, সেখানে মাস্ক ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয়।  অন্ধ্রপ্রদেশের সরকারি নির্দেশিকায়, রেলওয়ে স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড এবং বিমানবন্দরের মতো জায়গায়,  কোভিড-১৯ এর বিধিগুলো  কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ  দেওয়া হয়েছে। এখন থেকেই  স্বাস্থ্য বিভাগ সমস্ত হাসপাতালগুলিকে পর্যাপ্ত মাস্ক, পিপিই কিট এবং ট্রিপল-লেয়ার মাস্ক সরবরাহ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে খবর, এ বছর জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত দুই জন কোভিড-১৯-আক্রান্তের মৃত্যুর ঘটেছে। তবে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা পূর্বেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। মৃতদের মধ্যে একজন ‘হাইপোক্যালসিমিয়া’ রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁর কিডনির সমস্যাও ছিল। অন্যজন ক্যান্সার রোগী ছিলেন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬০৬৬টি নমুনার পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০৬টিতে কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ১০১ জন মুম্বই থেকে এবং বাকিরা পুনে, থানে এবং কোলাপুর থেকে।