নয়া দিল্লি: না জানিয়ে পাকিস্তানি তরুণীকে বিয়ে করার অভিযোগে এবার চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেন সিআরপিএফ-এর ৪১ ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল মুনির আহমেদ। 

সিআরপিএফ-এর তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, "একজন পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে কনস্টেবল মুনির আহমেদ গোপনে বিয়ে করেছিলেন এবং ভিসার মেয়াদ অতিক্রমের পরও জেনেশুনে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাঁর কর্মকাণ্ড চাকরির নিয়ম লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই ওই কনস্টেবলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।" 

সিআরপিএফ সূত্র জানিয়েছে যে, জম্মুর বাসিন্দা মুনির আহমেদ ২০১৭ সালে বাহিনীতে যোগদানের সময় একটি চিঠি লিখে তাঁর বিভাগকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি পাকিস্তানের এক মহিলাকে বিয়ে করতে চান। কিন্তু আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই তিনি বিয়ে করেন। গত বছরের ২৪ মে ভিডিও কলের মাধ্যমে মিনাল ও মুনির বিয়ে করেন। প্রসঙ্গত, মুনির খান জম্মুর ঘোরোটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি CRPF-এ কর্মরত। ফলে একজন পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে তার বিয়ে নিয়ে সুরক্ষার প্রশ্ন উঠছে। অনেকের মতে, এ ধরনের ঘটনায় গভীর তদন্ত ও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, বিশেষ করে যখন দেশে সন্ত্রাসবাদী ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।      

স্বল্প মেয়াদের ভিসাতে মুনিরের স্ত্রী কাশ্মীরে আসেন। ২২ মার্চ  ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পহেলগাঁও কাণ্ডের জেরে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয় সরকার। স্বামীর কাছে থাকতে চেয়ে শেষে কোর্টের দ্বারস্থ হন এই পাকিস্তানি তরুণী। ভিসার মেয়াদ মার্চে শেষ হয়ে গেলেও তিনি ভারতেই থেকে যান।

সিআরপিএফ কনস্টেবল মুনির আহমেদের স্ত্রী, পাকিস্তানের বাসিন্দা মিনাল খান-ও ভারত ছাড়ার নোটিশ পেয়েছিলেন। কিন্তু, গত ২৯ তারিখ হাইকোর্টের  নির্দেশ ছিল, আরও ১০ দিন ভারতে থাকতে পারবেন মিনাল। ফলে সীমান্তের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েও ফিরে আসেন তিনি। গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এরপরই ভারত বেশিরভাগ পাকিস্তানি নাগরিকের ভিসা বাতিল করে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।                                               

শেষপর্যন্ত বরখাস্ত করা হল সিআরপিএফ-এর ৪১ ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল মুনির আহমেদকে।