অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মাঝবরাবর আছড়ে পড়ছে ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'। রাত ১.২৩ নাগাদ শুরু হয় এই ল্যান্ডফলের প্রক্রিয়া । ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে প্রবেশের সময় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার। এর ফলে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরিতে শুরু হয়েছে প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই তৈরি ছিল প্রশাসন। ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস ছিল অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর। এই পরিস্থিতিতে বিমান পরিষেবা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৭ অক্টোবর পর্যালোচনা বৈঠক করে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশার বিমান পরিষেবা সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের উপর নির্ভর করে হায়দরাবাদ, বারাণসী, প্রয়াগরাজ ও গোরক্ষপুরেও বিমান চলাচলে দেরি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিমান সংস্থা, অসামরিক বিমান পরিবহণের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ, এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়াহয়।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দরে ২৭ অক্টোবর বিকেল থেকেই বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বিজয়ওয়াড়া ও রাজামুন্দ্রিতে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে সমস্ত উড়ান বাতিল করা হয়। ২৮ অক্টোবর দিল্লি-বোগাপুরম-দিল্লি রুটের পরিষেবাও বাতিল করা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লি-বিশাখাপত্তনম-দিল্লি রুটে ২৭ অক্টোবর ছয়টি উড়ান বাতিল হয়েছে। ২৮ অক্টোবর দিল্লি-বিজয়ওয়াড়া-দিল্লি রুটেও পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ১৩টি উড়ান বাতিল হয়েছে, যার অধিকাংশই বিশাখাপত্তনম থেকে হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু ও বিজয়ওয়াড়ার মধ্যে চলাচল করে। বারাণসী-বেঙ্গালুরু এবং ব্যাঙ্কক-বিশাখাপত্তনম রুটেও প্রভাব পড়েছে। ইন্ডিগোর তরফে জানানো হয়েছে, বিশাখাপত্তনমে সমস্ত উড়ান বন্ধ রাখা হয়েছে। বিজয়ওয়াড়া ও রাজামুন্দ্রিতেও ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দিল্লি-বোগাপুরম রুটে আকাসা এয়ারের যাতায়াতের উড়ানও বাতিল হয়েছে। তবে অ্যালায়েন্স এয়ার জানিয়েছে, তাদের পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। বাতিল হওয়া উড়ানের সংখ্যা পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট, অ্যাপ, হেল্পলাইন অথবা এসএমএসের মাধ্যমে উড়ানের সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উড়ান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে যাত্রা না করার অনুরোধও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, উপকূলবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যাওয়া এবং রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিমানবন্দরে পৌঁছনোর জন্য হাতে অতিরিক্ত সময় রাখতে বলা হয়েছে। প্রবীণ নাগরিক, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, শিশু-সহ যাত্রী এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে যাঁরা যাত্রা করছেন, সরকারের তরফে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিমান সংস্থাগুলিকে। উড়ান বাতিল বা দেরি হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে টিকিটের টাকা ফেরত এবং অন্য উড়ানে যাত্রার ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে। কোনও অভিযোগের সমাধান না হলে প্রথমে বিমান সংস্থার কাছে অভিযোগ জানাতে হবে। তাতেও সমাধান না হলে এয়ার সেবা পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।
