ভুবনেশ্বর: ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' বিদায় নিলেও তার প্রভাব কাটেনি। বরং প্রবল বৃষ্টি, বন্যা এবং একের পর এক ধসে কার্যত বিপর্যস্ত ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন। মৃতদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ৯ মাসের এক শিশুও। দক্ষিণ ওড়িশার একাধিক জেলায় নদীর জলস্তর বেড়ে প্লাবিত হয়েছে বহু গ্রাম। কোথাও বাড়িঘরে ঢুকেছে জল, কোথাও আবার ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।
শুক্রবার ওড়িশার কন্ধমল জেলায় ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি এবং তাঁদের ৯ মাসের সন্তান। প্রবল বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের একাংশ ধসে তাঁদের বাড়ির উপর এসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েই মৃত্যু হয় তিনজনের। স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আরও দু'জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মৃতদের পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি।
তিন জেলায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়
ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর প্রভাবে গঞ্জাম, গজপতি এবং কন্ধমল জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। একটানা বৃষ্টির জেরে এই তিন জেলার নদীগুলিতে জলস্তর দ্রুত বেড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বন্যার পাশাপাশি ধসের ঘটনাও ঘটেছে। বহু গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গঞ্জাম জেলার পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সোরাদা, আসিকা, ভঞ্জনগর এবং পুরুষোত্তমপুরের মতো এলাকায় ঢুকে পড়েছে বন্যার জল। রুশিকুল্যা নদীর জল উপচে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতু ও রাস্তাঘাটও।
২৩ হাজারের বেশি মানুষ ত্রাণ শিবিরে
দুর্যোগের জেরে ঘরছাড়া বহু মানুষ। ইতিমধ্যেই ২৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। তবে এখনও বহু মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), ওড়িশা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (ODRAF) এবং দমকল বিভাগের কর্মীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতীয় নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় আকাশপথে খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির ওড়িশা সফর বাতিল
ওড়িশার পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর নির্ধারিত সফর বাতিল করা হয়েছে। দুর্যোগের কারণে তাঁর সফর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির সঙ্গে কথা বলে দুর্গত এলাকার পরিস্থিতির খোঁজও নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
স্বাভাবিক হচ্ছে রেল ও সড়ক যোগাযোগ
বন্যার জেরে ব্যাহত হয়েছিল কলকাতা-চেন্নাই সংযোগকারী ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের যান চলাচল। বাহুদা নদীর জল উপচে রাস্তার একাংশ প্লাবিত হওয়ায় সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। তবে জলস্তর কিছুটা কমায় ওই জাতীয় সড়কে যান চলাচল ফের শুরু হয়েছে। রেল পরিষেবাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব কেটে গেলেও তার পরবর্তী ধাক্কায় এখনও বিপর্যস্ত ওড়িশা। বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া, খাবার ও পানীয় জল সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো দ্রুত মেরামত করা।
