ক্রমে ভয়াল রূপ নিচ্ছে সাইক্লোন দেতোয়া। ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে শ্রীলঙ্কা জুড়ে। বহুদিন পর এমন দুর্যোগ দ্বীপরাষ্ট্রে।  একের পর এক মৃত্যু বাড়ছে। বহু মানুষ নিখোঁজ। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে সময় যত এগোচ্ছে। চলছে অবিরাম বৃষ্টিপাত। একাধিক জায়গায় নেমেছে ভূমিধস। বন্যার জল ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে শহর থেকে গ্রাম।  দুর্যোগ কেড়ে নিয়েছে ৫৬ টি প্রাণ। তবে এই সংখ্যাটি আরও বেশি, মনে করছেন উদ্ধারকারীরা। এখনও ২১ জন নিখোঁজ । প্রায় ৪৪,০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, সর্বহারা হয়েছে। এখনও বেড়ে চলেছে  জলের স্তর।   

Continues below advertisement

রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিশানায়েকে  প্রশাসনিক আধিকারিকদের তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  ২০২৫ সালের বাজেটের অধীনে ১.২ বিলিয়ন টাকা তাৎক্ষণিক তহবিল প্রদান এবং ৩০ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করেছেন। প্রশাসনিক বিলম্ব এড়াতে একটি নতুন সার্কুলার জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সদর দফতরে একটি নির্দিষ্ট ইউনিট এবং দশটি জরুরি হটলাইন চালু করা হয়েছে।  এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানী কলম্বোর প্রধান রাস্তাগুলিও জলমগ্ন। সাউথ এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশে চলাচল বন্ধ রয়েছে। দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণে  একাধিক উড়ান তিরুঅনন্তপুরম, কোচিন এবং মাত্তালায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের ক্ষতি সামলানোর জন্য শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত।  শুরু করা হয়েছে ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’ । শুক্রবার সরকারের তরফে ত্রাণ সামগ্রী সহ জরুরি সাহায্য শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি শ্রীলঙ্কাকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত শ্রীলঙ্কাকে আরও বেশি সাহায্য করবে। তিনি বলেন- শ্রীলঙ্কার মানুষের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল, যাঁরা ঘূর্ণিঝড় দেতোয়ার জন্য প্রিয়জনদের হারিয়েছেন। আমি সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা, সান্ত্বনা এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

Continues below advertisement

শ্রীলঙ্কার তরফে সরকারি তথ্য অনুসারে, ১২,৩১৩ পরিবারের ৪৩,৯০০ জনের বেশি মানুষ খারাপ আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ।  

শ্রীলঙ্কা সরকার জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে শুক্রবার প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি ছাড়া সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।