দশেরার শোভাযাত্রায় বড় বিপর্যয়।  আচমকাই উত্তেজিত ছুটতে শুরু করল হাতি। সে-এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য। ভয়ে - আতঙ্কে ছুটতে শুরু করে হাতিটি। হাতির পায়ে পিষে মৃত্যুর ভয়ে ছোটাছুটি শুরু। এরই মধ্যে পড়ে গেল হাতির পিঠে চাপানো ৬৫০ কেজি ওজনের বিশাল রুপোর হাওদা। হাতিটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায়  আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে লোকজনের মধ্যে। প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন সাধারণ মানুষ। হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক বাড়ি ও গাড়ি। ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের শিবমোগ্গায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমান্না নামে হাতিটি দশেরা উপলক্ষ্যে একটি শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিল। আচমকাই সেটি উত্তেজিত হয়ে পড়ে। রাস্তায় ছোটাছুটি শুরু করে।  তার পিঠে থাকা বিশাল রুপোর হাওদাটি খুলে পড়ে যায়। গোটা ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

Continues below advertisement

কী এই 'অম্বারি'?

হাতিটির পিঠে চাপানো রুপোর হাওদাটি  সেখানে 'অম্বারি' নামে পরিচিত। উৎসবের শোভাযাত্রায় হাতির পিঠে এই ধরনের কারুকার্যখচিত আসন বসানো হয়। কর্নাটকের দশেরা উৎসবে এই ঐতিহ্যের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ! ঐতিহ্যবাহী এই ঘটনাতেই ঘটে গেল এই বিপর্যয়।  পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসে পুলিশ,  বন দফতরের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার। হাতিটিরও চিকিৎসা চলছে।

Continues below advertisement

এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কর্নাটক সরকার। রাজ্যের মন্ত্রী রামালিঙ্গা রেড্ডি বন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে জাম্বু সাভারিতে অংশ নেওয়া হাতিদের অন্তত ২০ দিন থেকে এক মাস প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অভিজ্ঞ মাহুতদের তত্ত্বাবধানে এই প্রশিক্ষণ দিতেই হবে।   বড় জমায়েতের মধ্যে কোনও উৎসবে হাতিদের অংশগ্রহণের আগে তাদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। 

অন্যদিকে, দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জনের শোভাযাত্রার সময় হাই টেনশন লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে। প্রতিবাদে বিআরডি মেডিক্যালের সামনে অবরোধ শুরু করেন স্থানীয়রা। লাঠিচার্জ করে পুলিশ। সেদিন বিসর্জনের শোভাযাত্রা করে আসার সময়ই আচমকাই ওই ঘটনা ঘটে । প্রতিমার গাড়ির ধাতব পাত, হাই টেনশন লাইনে বিদ্যুৎ এর সংস্পর্শে চলে আসে। এরপরেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান  ৩ জন।  উৎসবের আবহে এমন ঘটনায় আতঙ্কিত সবাই। এই ঘটনার পরেই স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবশেষে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশের।