নয়াদিল্লি: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য ! এএনআই সূত্রে খবর।'ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র করেছিল ৮ জন। চারটি শহরে একই সময়ে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা। ২ জন করে চারটি দলে ভাগ হয়ে বিস্ফোরণের ছক জঙ্গিদের। ওই চার শহরে রেকিও করেছিল জঙ্গিরা। প্রতিটি দলের কাছে একাধিক IED রাখারও পরিকল্পনা ছিল, খবর সূত্রের। ১০ নভেম্বর দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড কি হিমশৈলের চূড়ামাত্র? ৬ ডিসেম্বর কি বড় মাপের কোনও হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের? উঠেছে প্রশ্ন।
এএনআই-সহ আরও একাধিক সূত্র মারফৎ বিভিন্ন খবর এসেছে পৌঁছেছে। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত গোয়েন্দারা যেটা পেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে, সেটা হচ্ছে, শুধুমাত্র দিল্লি তাঁদের টার্গেটে ছিল না। কারণ দিল্লির কাছে ফরিদাবাদেই, শুধু ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। এর বাইরে কিছু বিস্ফোরক দিল্লিতে গাড়ি করে নিয়ে যাওয়ার সময়, ড. ওমর আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এছাড়াও কোথাও কত বিস্ফোরক লোকানো রয়েছে, কোথায় কতজন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে, সেই সম্পর্কে এখনও তথ্য জানা যাচ্ছে না। কিন্তু যারা এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে, যার মধ্যে, চারজন ডাক্টার রয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং অন্যান্য সূত্র মারফৎ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেটা গোয়েন্দারা জানতে পারছেন, ভারতবর্ষের চারটি শহরের সিরিয়াল ব্লাস্ট ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল, এই জঙ্গিদের ! এই প্রত্যেকটা শহরের জন্য, দুজন করে জঙ্গিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা এক একটা শহরের একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল। যেটা জানা যাচ্ছে, এই শহরগুলির মধ্যে যেরকম দিল্লি ছিল, তেমনই আহমেদাবাদ-সহ অন্যান্য শহরেও রেকি করা হয়েছিল।
দিল্লির বুকে একটা বিস্ফোরণ কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। কেড়ে নিয়েছে ১৩টা প্রাণ! এরকম বিস্ফোরণ দেশের আরও চারটে শহরে ঘটলে, কী হত ?! ভাবতেই গায়ে কাঁটা দেয়। কারণ, গোয়েন্দা সূত্রকে উদধৃত করে সংবাদসংস্থার তরফে যে দাবি করা হচ্ছে, তা শুনে যে কোনও মানুষের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে! সূত্রের দাবি,জঙ্গিদের প্ল্য়ান ছিল একটা দুটো নয়, ৪টে শহরে বিস্ফোরণ ঘটানো! দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল ৬ ডিসেম্বরকে। কারণ ১৯৯২ সালে এই দিনেই বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়। আর জঙ্গিদের উদ্দেশ্য় ছিল বাবরি ধ্বংসের বদলা নেওয়া। সেই জন্য় তারা টার্গেট করেছিল অযোধ্য়ার রামমন্দিরকেও। দিল্লির ধাঁচে সিরিয়াল ব্লাস্টের জন্য় তৈরি করা হচ্ছিল একাধিক গাড়ি!ফরিদাবাদের ঘটনায় সামনে এসেছে জঙ্গিদের চমকে দেওয়া ডাক্তার-মডিউল। অর্থাৎ প্রাণ বাঁচানো ডাক্তারদের দিয়ে প্রাণ নেওয়ার কাজে লাগানো! এই বিস্ফোরণে মৃত্য়ু হয়েছে চিকিৎসক আল উমর উন নবি-র। আদিল আহমেদ রাথের এবং মুজাম্মিল আহমেদ নামে আরও দুই ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্রের দাবি, গোয়েন্দা সূত্রকে উদধৃত করে সংবাদসংস্থার দাবি, জঙ্গিরা যে প্ল্য়ান করেছিল, তার উদ্দেশ্য় ছিল একসঙ্গে একাধিক বার্তা দেওয়া। অপারেশন সিঁদুরের বদলা। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বদলা। রিক্রুটমেন্ট সেলকে চাঙ্গা করা এবং তরুণদের নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করা। এবং একেবারে দিল্লির বুকে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এই বার্তা দেওয়া, ইচ্ছা হলে তারা ভারতে যে কোনও প্রান্তে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, ৪ শহরে বিস্ফোরণের জন্য় ৮ জনের দল তৈরি করা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, IED নিয়ে প্রতিটা শহরে পৌঁছে যাবে ২ জন করে। গোয়েন্দা সূত্রকে উদধৃত করে সংবাদসংস্থার আরও দাবি, জঙ্গিরা প্রথমে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল ১৫ অগাস্ট। কিন্তু, কোনও কারণে সেই দিন পাল্টে করা হয় ৬ ডিসেম্বর।তা-ও সম্ভব না হলে জঙ্গিরা ২৬ জানুয়ারি বিস্ফোরণ ঘটানোর ছকও কষে রেখেছিল।ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধার এবং দিল্লির বিস্ফোরণের পর একে একে সামনে এসেছে জঙ্গিদের এই মারাত্মক পরিকল্পনা। কিন্ত প্রশ্ন হল এই সন্ত্রাসবাদী মডিউলের শাখা প্রশাখা আরও বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে নেই তো?