নয়া দিল্লি: আতঙ্কের দিনরাত্রি। রান্নাঘরে হাহাকার। বন্ধ একাধিক ফুড স্টল। ছোট রেস্তোরাঁ। ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক। চিন্তার কারণ নেই, ভারত সরকারের আশ্বাসের পরও নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাস সরবরাহ অক্ষুন্ন রাখতে বড় পদক্ষেপ করল দিল্লি সরকার। রাজধানী দিল্লি-তে এলপিজি (LPG) বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। গুদাম থেকে সরাসরি সিলিন্ডার বিক্রির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।
৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের ব্যবস্থা
Oil Marketing Companies (OMCs) সমস্ত ডিস্ট্রিবিউটরদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, গুদাম থেকে সরাসরি সিলিন্ডার বিক্রি এখন বেআইনি। এই নিয়ম ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের সরবরাহ অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। এখন বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়েই সহজে গ্যাস এজেন্সি থেকে এই সিলিন্ডার কেনা যাবে। এর জন্য আলাদা করে ঠিকানা যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই।
১১টি হেল্প ডেস্ক চালু
Hindustan Petroleum Corporation Limited (HPCL)-এর নির্বাচিত আউটলেটগুলিতে ১১টি হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে, যেখানে কাছাকাছি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী Rekha Gupta জানিয়েছেন, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। দিল্লির বাসিন্দাদের অযথা গ্যাস এজেন্সি বা স্টোরেজ পয়েন্টে ভিড় না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, বুকিং করা সমস্ত সিলিন্ডার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে দিল্লি সরকার।
কত দিনের মাথায় মিলছে সিলিন্ডার ?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দিল্লিতে মোট ১,১৪,৬৭৯টি এলপিজি বুকিং নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে Oil Marketing Companies-র মাধ্যমে ১,৩১,৩৩৫টি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারির গড় সময় দাঁড়িয়েছে ৪-৫দিন। এর ফলে এখন অনেক গ্রাহকই অনেকটা নিশ্চিন্ত। রাজধানী দিল্লি-তে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়ারাও বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন। এলপিজির দাম বৃদ্ধির জেরে খাবার ও মেসের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের দৈনন্দিন ব্যয়ও বাড়ছে। একইসঙ্গে ছোট ব্যবসাগুলিও বড়সড় ধাক্কার মুখে। রাস্তার হকার ও স্ট্রিট ফুড বিক্রেতারা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ছোট খাবারের দোকানগুলিতে খাবারের দাম বাড়ানো হচ্ছে। দৈনন্দিন খাবার-দাবারের খরচ বাড়ছে প্রতিদিনই। সব মিলিয়ে, এলপিজি সঙ্কট যে শহুরে অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট ।
