নয়া দিল্লি: চোখের সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল গোটা বহুতল বাড়ি। ভিতরে তখন আটকে একাধিক পড়ুয়া। ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ফোন করে বাঁচার আকুতি জানালেন এক ছাত্র। দিল্লির সত্য নিকেতনে ছাত্রদের PG ভেঙে পড়ার ঘট দিনায় সামনে এসেছে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের ভিডিও, এমনই খবর সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ১১ জনকে। চলছে জোরকদমে উদ্ধারকাজ।

Continues below advertisement

ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ‘SOS’!

ধসে পড়া বাড়িটির ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা এক পড়ুয়ার ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চারপাশে কংক্রিটের চাঙড় ও ভাঙা অংশের মধ্যে আটকে রয়েছেন ওই পড়ুয়া। মুখে ধুলোর আস্তরণ, শরীরে রক্তের দাগ। তবুও সচেতন অবস্থায় ফোনের ক্যামেরা ঘুরিয়ে নিজের অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

Continues below advertisement

National Students' Union of India বা NSUI-এর তরফে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি সামনে আসতেই আরও স্পষ্ট হয়, ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া পড়ুয়াদের কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল।

৫০ বছরের পুরনো বাড়িতে চলছিল নির্মাণকাজ

ঘটনাটি ঘটে রবিবার দুপুরে। দিল্লির দক্ষিণে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কাছাকাছি সত্য নিকেতনে ভেঙে পড়ে প্রায় ৪০-৫০ বছরের পুরনো একটি বহুতল বাড়ি। সেটি ‘Hostel Daze’ নামে ছাত্রদের PG হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির নিচের অংশে নির্মাণ বা মেরামতির কাজ চলছিল। দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে বাড়িটি। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন একাধিক পড়ুয়া।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিনের বৃষ্টির পর বেসমেন্টে জল জমেছিল। তার জেরেই বাড়িটির ভিত দুর্বল হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

বাড়িতে ছিলেন বহু পড়ুয়া

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটিতে প্রায় ১৫টি ঘর ছিল এবং প্রতি ঘরে দু’ থেকে তিনজন করে পড়ুয়া থাকতেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে কেরল, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁরা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কলেজে পড়াশোনা করতেন।

বাড়িটির প্রতি বেডের জন্য মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হত বলে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ

বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর পেতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দিল্লি পুলিশ, দমকল, অ্যাম্বুল্যান্স এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। National Disaster Response Force বা NDRF-সহ একাধিক সংস্থা উদ্ধারকাজে নামে।

ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছতে অক্সিজেন সিলিন্ডারও নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। সংকীর্ণ গলির কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছতেও সমস্যার মুখে পড়ে।

FIR, তদন্তের নির্দেশ

ঘটনার পর বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে গাফিলতি, কাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং জননিরাপত্তা বিপন্ন করার মতো অভিযোগে মামলা হয়েছে। বাড়ির মালিককে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ দলও গঠন করা হয়েছে। 

ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, আশপাশের বিপজ্জনক ভবন নিয়েও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ শুরু করেছে MCD।

দুর্ঘটনার পর সত্য নিকেতন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ এবং PG বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের তরফে আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এখনও উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সত্য নিকেতনের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।