কলকাতা: অনলাইন শপিংয়ে ভুয়ো ডিসকাউন্ট, বিভ্রান্তিকর সার্চ রেজাল্ট, অতিরিক্ত চার্জ এবং গোপন ফি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। এবার সেই ধরনের সমস্যার মোকাবিলায় ই-কমার্স কনজিউউমার প্রোটেকশন রুলস, ২০২০-তে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র। ই-কমার্স কনজিউউমার প্রোটেকশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬ অনুযায়ী নতুন নিয়মগুলো ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে। 

Continues below advertisement

ডিসকাউন্টের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা

নতুন নিয়মে কোনও পণ্যে দাম কমানোর কথা বলা হলে বর্তমান দাম এবং আগের দাম, দু'টোই দেখাতে হবে। এখানে আগের দাম বলতে অফার ঘোষণার আগের ৩০ দিনে ওই পণ্য বা পরিষেবা সবচেয়ে কম কত দামে বিক্রি হয়েছে, সেটাকে বোঝানো হয়েছে। ফলে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ডিসকাউন্টের দাবি সত্যিই কতটা বাস্তব, তা বোঝা সহজ হবে। 

সার্চ রেজাল্ট ও স্পন্সর লিস্টিং

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে সার্চ রেজাল্ট পরিবর্তন করতে পারবে না, যাতে ব্যবহারকারী বিভ্রান্ত হন বা তাঁর সার্চের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ফলাফল পিছিয়ে যায়। পাশাপাশি কোনও পণ্য স্পনসরড বা পেইড লিস্টিং হলে তা স্পষ্ট ও প্রমিনেন্ট ডিসক্লোজার-এর মাধ্যমে জানাতে হবে। 

Continues below advertisement

ডার্ক প্যাটার্নের বিরুদ্ধে কড়া নিয়ম

২০২৩ সালের ডার্ক প্যাটার্ন গাইডলাইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক হবে। প্ল্যাটফর্মগুলোকে বছরে অন্তত একবার সেলফ অডিট করতে হবে এবং কমপ্লায়েন্স স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। কৃত্রিম ভাবে জরুরি অবস্থা তৈরি (False urgency), গোপনে কোনও পণ্য যোগ করে দেওয়া (basket sneaking) বা ধাপে ধাপে মূল্য প্রকাশ (drip pricing) করার মতো বিভ্রান্তিকর ডিজিটাল কৌশল নিয়ন্ত্রণই এর অন্যতম লক্ষ্য। 

অতিরিক্ত ও অপ্রাসঙ্গিক ফি বন্ধ

কেনাকাটার সঙ্গে সম্পর্কহীন পরিষেবার জন্য বান্ডেল ফি নেওয়া যাবে না। তবে নির্দিষ্ট শর্তে লয়ালিটি বা মেম্বারশিপ প্রোগ্রামের মতো পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। 

পণ্য ও বিক্রেতার তথ্য আরও পরিষ্কার

অনলাইন পণ্যের তালিকায় Best Before/Use Before, রিটার্ন/রিফান্ড পলিসি, ওয়ারেন্টি, ডেলিভারি ও পেমেন্ট-এর তথ্য দিতে হবে। আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে কে আমদানি করেছেন, তার তথ্য এবং তা কোন দেশে প্রস্তুত করা হয়েছে, সেটাও জানাতে হবে। 

ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার

ভোক্তার তথ্য নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে হলে প্ল্যাটফর্মকে সুস্পষ্ট সম্মতি নিতে হবে। অর্থাৎ শুধু পরিষেবা ব্যবহারের জন্য তথ্য দেওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য কাজে ব্যবহারের অনুমতি নয়। 

অভিযোগ নিষ্পত্তিতেও বদল

অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর গ্রিভান্স অফিসার-কে অভিযোগকারীকে সেই অভিযোগের একটি কপি দিতে হবে। পাশাপাশি ই-কমার্স সংস্থাগুলোকে জাতীয় উপভোক্তা হেল্পলাইন (National Consumer Helpline) বা NCH-এর কনভারজেন্স সিস্টেম-এর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। ২০২৫ সালে NCH-এ ১৭ লক্ষ ৭১ হাজারের বেশি অভিযোগ এসেছিল, যার প্রায় ২৯ শতাংশ ছিল ই-কমার্স সংক্রান্ত। 

১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কার্যকর হতে চলা পরিবর্তনগুলো অনলাইন কেনাকাটায় দাম, বিজ্ঞাপন, পণ্য-তথ্য, ব্যক্তিগত ডেটা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য নিয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ক্রেতাদের জন্য অনলাইনে পণ্য তুলনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের পরিমাণ বাড়বে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর নিয়মপালন ও তথ্য প্রকাশের দায়িত্বও বাড়বে।