নয়াদিল্লি: সংঘাত মেটাতে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা ছিল না। পারস্পরিক সম্মতিতেই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় ভারত ও পাকিস্তান। গত কয়েক দিনে দিল্লির তরফে বার বার করে একথা জানানো হলেও, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করেই চলেছেন। ফের একবার জানালেন, যুদ্ধবিরতিতে তিনিই শেষ কথা বলেছেন। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে লাগাতার পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিল বলে দাবি করলেন। (Donald Trump)

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গে বৈঠক চলছিল ট্রাম্পের। সেখানেই ফের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করেন তিনি। বলেন, "ভারত ও পাকিস্তানের ব্যাপারে আমাদের ভূমিকা যদি দেখেন...আমরা গোটা বিষয়টির সমাধান বের করেছি। আমার বিশ্বাস, ব্যবসার মাধ্যমেই সমাধান বের করা গিয়েছে। আমরা ভারতের সঙ্গে বড় চুক্তি করতে চলেছি। বড় চুক্তি করতে চলেছি পাকিস্তানের সঙ্গেও। কী যে হচ্ছিল! শেষ কথা কাউকে না কাউকে বলতেই হতো। পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিল ক্রম, সঙ্কট গভীর হচ্ছিল। পাকিস্তানে কিছু চমৎকার মানুষ আছেন, কিছু ভাল নেতা আছেন এবং ভারত আমার বন্ধু, মোদি আমার বন্ধু। দু'পক্ষের সঙ্গেই কথা বলি আমি।" (India-Pakistan Conflict)

এই মুহূর্তে তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যেও শান্তিস্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, "আমরা রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধেও ইতি টানার চেষ্টা করছি। দু'দিন আগেই ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলি প্রায় আড়াই ঘণ্টা। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে অনেকটাই। শহরগুলিকে বাদ দিলেও ৫০০০ মানুষ মারা গিয়েছেন। আমাদের কেউ নেই ওখানে। কিন্তু এত মানুষ মারা যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোটে ভাল নয়।"

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে Operation Sindoor চালায় ভারত। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে ভেঙে দেওয়া হয়। এর পাল্টা পাকিস্তান ভারতের উপর আঘাত হানতে এলে, তারও কড়া জবাব দেওয়া হয়। সেই পরিস্থিতিতে দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত যখন ঘোরাল হচ্ছিল, আমেরিকার তরফে হস্তক্ষেপের দাবি করা হয়। ভারত ও পাকিস্তানের তরফে কোনও বিবৃতি আসার আগেই, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করে দেন। ব্যবসার টোপ দিয়েই তিনি দুই দেশকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছেন বলে দাবি করেন। 

ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে ট্রাম্প কেন হস্তক্ষেপ করছেন, তিনি কেন কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে নাক গলাচ্ছেন, দেশের অন্দরে সেই নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে। বার বার ট্রাম্প কৃতিত্ব দাবি করতে শুরু করলে, বিদেশমন্ত্রকের তরফে সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক সম্মতিতেই যুদ্ধবিরতি হয়েছে। সেই সমঝোতায় তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা ছিল না। কিন্তু তার পরও নিজের অবস্থান থেকে সরছেন না ট্রাম্প। তাঁর হস্তক্ষেপেই যুদ্ধবিরতি হয়েছে বলে দাবি করে চলেছেন এখনও।