ট্রাম্পের ভরাডুবি, রিপাবলিক পার্টির মহাবিপর্যয়।  আমেরিকার মিড টার্ম ইলেকশনের ফলকে এমনভাবেই দেখছেন সকলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  গত অর্ধ শতাব্দীতে এইরকমভাবে হারেনি রিপাবলিকান পার্টি । রিপাবলিকানদের গড় বলে পরিচিত অনেক রেড স্টেটই এখন নীল-স্টেটে পরিণত হয়েছে । ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবার টেক্সাসে সেনেট দখল করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ১৯৯৮ সালের পর জর্জিয়ায় গভর্নর পদ এবং সাউথ ক্যারোলিনায় সিনেট আসন জিতেছে ট্রাম্প বিরোধীরা।  সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, ১৯৩২ সালের পর প্রথমবারের মতো কানসাসে একজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কিন্তু কেন এই ফল ? ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স সরাসরি বলেছেন, ইরান যুদ্ধই এই ফলের কারণ। ভ্যান্সের বক্তব্য, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন এমন বহু ভোটারই, এবার মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে হতাশ। তাঁরাই এবার রিপাবলিকানদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প ? তিনি কী ভাবছেন ? 

Continues below advertisement

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, তবে কি   ইরানের সঙ্গে যুদ্ধই তাঁর পক্ষে কাল হল ? এটাই কি ভোটে ভরাডুবির কারণ ? সাংবাদিকদের মুখে উঠে আসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের কথাও। তখন ট্রাম্প প্রথমে বলেন, ‘অনেকটাই সত্যি।’ তবে এটুকু বলেই থামেননি ট্রাম্প। বলেন, ‘আমি মনে করি, হ্যাঁ, একথা অনেকাংশেই সত্যি। কারণ এর ( ইরান যুদ্ধ ) ফলে স্বল্প মেয়াদে পেট্রোলের দাম কিছুটা বেড়েছে।’ তবে ট্রাম্প আবার কথা ঘুরিয়ে বলেন, যদি এমনটা তাঁকে আবার করতে হয়, তিনি আবারও এটাই করবেন। অর্থাৎ ট্রাম্পের স্পষ্ট ইঙ্গিত, এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলে, তিনি আবারও একই সিদ্ধান্তই নেবেন। 

এতকিছুর পরেও সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন,  ব্যালটে আমার নাম ছিল না। যদি থাকত, তা হলে বিপুল ভোটে জিততাম। অর্থাৎ নিজের ঘাড় থেকে দোষ টুক করে অন্য দিকে ঠেলে দিতে ট্রাম্প দেরি করেননি। যদিও মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের উদ্দেশে এই ট্রাম্পই বলেছিলেন,  ব্যালটে তাঁর নাম আছে, এমনটা ধরে নিয়ে ভোট দিতে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শেষ দু'বছর হোয়াইট হাউসে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।  এদিন সমাজ মাধ্যমে একটি লাল রঙের টুপির ছবি পোস্ট করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তাতে লেখা ছিল VETO। আমেরিকার সংবিধানে প্রেসিডেন্টের একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। যার জেরে আইনসভায় পাস হওয়া যে কোনও বিল ভেটো প্রয়োগ করে রদ করে দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টুপির ছবি পোস্ট করে সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।   

Continues below advertisement