ওয়াশিংটন : পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আগেও কখনও দারুণ মানুষ, কখনও মহান নেতা বলে প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। আবারও একবার নরেন্দ্র মোদির ঢালাও প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যান্যবারের থেকে এবার প্রশংসার বিষয়টি আলাদা, কারণ এখন সারা বিশ্ব আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের ফল ভোগ করছে। এই সময় এই দেশগুলির সঙ্গে কার কেমন সম্পর্ক , তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
শুক্রবার ভারতে মার্কিন দূতাবাসের তরফে প্রকাশিত এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “Modi and I are two people that get things done” । অর্থাৎ আমি আর মোদি এমন মানুষ, যারা কাজ করে দেখাই। যা অন্য অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তিনি ও মোদি - তাঁরা কাজের করে দেখাতে সক্ষম!
দিন কয়েক আগেই মঙ্গলবার মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে কথাবার্তা হয়। প্রায় এক মাস ধরে অশান্ত পশ্চিম এশিয়া। সূত্রের খবর, এই নিয়ে আলোচনা হয় দুই নেতার মধ্যে। ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর এই প্রথমবার কথা বলেন দুই রাষ্ট্রনেতা। ফোনে মোদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত যুদ্ধের পক্ষে নয়। বরং শান্তির দিকে এগোতেই আগ্রহী। যত দ্রুত সম্ভব সংঘাত প্রশমিত করা জরুরি। একইসঙ্গে, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । কারণ এই পথই বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহণ রুট। এই বিষয়ে দুই দেশই নিয়মিত যোগাযোগ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারতের লক্ষ্য হলো পরিস্থিতি শান্ত করা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই প্রশংসা এই অশান্ত সময়েও ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার ইঙ্গিত। এতে স্পষ্ট বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তা বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
