দেরাদুন: সোমবার দেরাদুনের দুন মেডিকেল কলেজের ন' জন এমবিবিএস শিক্ষার্থীকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বরখাস্ত এবং হোস্টেল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

Continues below advertisement

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, র‍্যাগিং-বিরোধী কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে দেওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৩ এবং ২০২৪ ব্যাচের এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১২ জানুয়ারি কলেজ হোস্টেলে দুই জুনিয়র ছাত্রের উপর হামলার ঘটনায় কমিটি তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছে।

তারা জানিয়েছে যে দুই ছাত্রকে দুই মাসের জন্য ক্লাস থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের কোর্সের পুরো সময়কালের জন্য হোস্টেল এবং ইন্টার্নশিপ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।                                

Continues below advertisement

অফিসাররা জানিয়েছেন যে, এছাড়াও, আরও সাতজন সিনিয়র ছাত্রকে এক মাসের জন্য ক্লাস থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তিন মাসের জন্য হোস্টেল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দুন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ গীতা জৈনের কাছে জমা দিয়েছে। ডঃ জৈন বলেন যে দুন মেডিকেল কলেজ একটি র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস এবং কোনও অবস্থাতেই র‍্যাগিং সহ্য করা হবে না।                                   

রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষামন্ত্রী ধন সিং রাওয়াত এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি কলেজের অধ্যক্ষকে এই ঘটনার তদন্ত করে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যা ভবিষ্যতের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করে। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যা গ্রহণযোগ্য হবে না।

ঠিক কী হয়েছিল? 

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ১৩ জানুয়ারি। র‌্যাগিংয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই হুলস্থুল পড়ে যায়। প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়াকে মারধরের পর চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ ব্যাচের এক পড়ুয়া এই অভিযোগ তুলেছিলেন। শুধু হেনস্থা করাই নয়, বেল্ট এবং জুতো দিয়েও তাঁকে মারধর করা হয়েছিল বলে খবর। আক্রান্ত ওই পড়ুয়ার আরও অভিযোগ, প্রথমে মারধর করা হয়, তার পর কলেজের বাইরে নিয়ে গিয়ে জোর করে চুল কেটে নেওয়া হয়। এমনকি সারারাত তাঁকে বাইরে শুতেও বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন।