নয়া দিল্লি: বাংলায় একটা প্রবাদ আছে 'কুপুত্র যদি বা হয়, কুমাতা কদাপি নয়'। কিন্তু যে তথ্য সামনে এল তা থেকে স্পষ্ট যে 'কুমাতা'ও হয়। উত্তর প্রদেশের একটি আদালত তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে চরিত্রের উপর সন্দেহের কারণে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক মহিলাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। এছাড়াও আদালত দোষীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে।

২০২০ সালের এপ্রিল মাসে এই অপরাধের সূত্রপাত ঘটে। একজন ব্যক্তি রিপোর্ট করেন যে তার ১৪ বছর বয়সী কাকার মেয়ের বেশ কিছুদিন ধরে খোঁজ পাচ্ছে না। মেয়েটির বাবা, যিনি গ্রামের বাইরে কাজ করতেন, তিনিও তার অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পুলিশ এই সূত্র ধরেই তদন্তে নামে। 

এরপরই পুলিশ জানতে পারে, মেয়েটি মারা গিয়েছে। কিন্তু কীভাবে তা জানার চেষ্টা করেতই চোখ কপালে ওঠে। বাড়ির পিছনের উঠোনে পুঁতে রাখা দেহ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য। ৪ মে ২০২০ তারিখে এই খুনের ঘটনাটি ঘটে বলে তদন্তে জানতে পারে পুলিশ।                            

মৃতদেহ উদ্ধারের পর, পরিবারের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এরপরই উঠে আসে হাড়হিম তথ্য। মেয়ের মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে জানা যায় মেয়ের চরিত্র নিয়ে সন্দেহের কারণে তাকে খুন করেছে তিনি। অপরাধ গোপন করার জন্য দেহ মাটি চাপা দিয়েছে। পরবর্তী ময়নাতদন্ত পরীক্ষায় মৃত্যুর কারণ খুন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এরপর মায়ের নামে চার্জশিট গঠন করে পুলিশ। রাজ্যের আইনজীবীর তরফে বলা হয়, "মা তার নাবালিকা মেয়ের চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন, যার ফলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে"। তিনজন বিচারকের বেঞ্চে মামলাটি ওঠে এবং মা-কে মেয়ের খুনের দায়ে জেল হেফাজত দেওয়া হয়েছে।