সপ্তাহ শুরুতেই কেঁপে উঠল ভূস্বর্গ। সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি, ভোর তখন ৫.৩৫। কেঁপে ওঠে উপত্যকার মাটি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬। কম্পনের উৎস উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে। মাঝারি মানের এই ভূমিকম্পে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভারত -পাকিস্তান সীমান্তে। ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল। তখন বহু মানুষই গভীর ঘুমে। তবে কম্পন অনুভূত হতেই ঘর ছাড়েন বহু মানুষ। ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতেই বেরিয়ে আসেন রাস্তায়।
কাশ্মীর প্রশাসন সতর্ক অবস্থায়
এসডিএমএ-র এক সিনিয়র অফিসার জানিয়েছেন যে ভূমিকম্পের কারণে কোনো ধরনের জীবনহানির খবর নেই। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রশাসন সাধারণ নাগরিককে অযথা আতঙ্ক না করার পরামর্শ দিয়েছে। কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বলেছে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে । যদি প্রয়োজন হয়, তবে জনগণকে আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়া হবে। এখন আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
গত ১৯ জানুয়ারি সোমবার সকালে, দিল্লি-এনসিআর-এ আকস্মিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়।মানুষ তাদের বাড়িঘর এবং অফিস থেকে ছুটে বেরিয়ে আসে। কম্পনটি মৃদু ছিল, তাই কোনও হতাহত বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি অনুসারে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ২.৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর দিল্লি। স্বস্তির বিষয় হল ভূমিকম্পের তীব্রতা কম ছিল, যার কারণে কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
মাটির নীচে কীভাবে তৈরি হয় কম্পন?
ডজনখানেক ছোট-বড় অংশ নিয়ে গঠিত ভূত্বক। যা টেকটনিক প্লেট নামে পরিচিত। এর নীচেই থাকে গলিত ও অর্ধগলিত ম্যাগমা। তরল ম্যাগমার ওপর ভাসমান দু’টি মহাদেশীয় প্লেটের স্থান পরিবর্তনের সময় প্লেটগুলির কিনারায় প্রবল পীড়নের সৃষ্টি হয়। পীড়ন যখন বড়সড় চ্যুতির সৃষ্টি করে এবং এর অন্তর্নিহিত শক্তি বের করার চেষ্টা করে, ঠিক তখনই কেঁপে ওঠে ভূপৃষ্ঠ। প্লেটগুলি একে অপরের সাথে ঘষা খেতে খেতে কখনও কখনও একটি প্লেট অপরটির ওপরে বা নীচে চলে যায়। তখনই কম্পন তৈরি হয়।
