গভীর রাতে মারাত্মক কম্পন। আন্দোলিত হল জন। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-র আপডেট অনুসারে, রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর জুড়ে বিপজ্জনক মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৬.১ । ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরেঘটেছে।
ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কেমন?
স্বাভাবিক ভাবেই ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি কম্পনটি ঘটায়, ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকেই। এই ধরনের কম্পনে পরপর আফটার শকা আসতে পারে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির এক্স-পোস্ট বলছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.১,। ভারতীয় সময় অনুসারে, রাত ৮ টা ৫৭ মিনিটে ১৫.৩৫৩ দক্ষিণ, অক্ষাংশ, ১৭২.৮২৪ পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে ঘটনাটি ঘটে। কম্পনের গভীরতা ছিল ১০ কিমি।
কেন ভূমিকম্প এখানে?
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) বলছে, ভূমিকম্পটি যেখানে ঘটেছে সেটিকে প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অফ ফায়ার' বা 'অগ্নিবলয়' অঞ্চলে ঘটেছে। এই বলয়টি টেকটোনিক প্লেটের সীমানা বরাবর অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে মহাসাগরীয় প্লেটগুলো অন্য একটি প্লেটের নিচের দিকে চলে যাচ্ছে, তার ফলে সংঘর্ষ তৈরি হচ্ছে। এই অধোগমন অঞ্চলগুলিতে প্লেটগুলোর মধ্যে সরণ এবং প্লেটের অভ্যন্তরে ফাটলের কারণে ভূমিকম্প হয়। এখনে বছরে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হয়। চিলিতে ৯.৫ মাত্রার ভূমিকম্পটির কথা মানুষ এখনও ভোলেনি। এতটাই ভয়াবহ ছিল তার পরিণাম।
বিশ্বের প্রায় ৯০% ভূমিকম্প 'রিং অফ ফায়ার' এলাকাতেই
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের প্রায় ৯০% ভূমিকম্প 'রিং অফ ফায়ার' বরাবর হয়ে থাকে। বিশ্বের সবথেকে বড় প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর প্রায় ৮১% এই বলয়েই ঘটে থাকে। অনুমান করা হয় যে, প্রতি বছর বিশ্বে ৫ লক্ষ শনাক্তযোগ্য ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে ১ লক্ষ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় বলয়টি প্রায় ৪০,০০০ কিমি (২৫,০০০ মাইল) দীর্ঘ এবং প্রায় ৫০০ কিমি (৩১০ মাইল) পর্যন্ত প্রশস্ত। প্রশান্ত মহাসাগরের বেশিরভাগ অংশকে ঘিরে রেখেছে।
