কলকাতা: গির্জায় প্রার্থনা চলাকালীন ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত প্রার্থনাসভায় বক্তব্য রাখছিলেন এক ক্যাথলিক ফাদার। জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও মৃত্যুর অনিবার্যতা নিয়ে বক্তব্য রাখার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর পিছনে দেওয়ালে ঝোলানো বিশাল ক্রুশটি খুলে মাথার উপর আছড়ে পড়ে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ইকুয়েডরের পুরোহিত ফাদার পাত্রিসিও আলফ্রেদো সানচেজ মোলিনারির। ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ধর্মীয় মহলে।

Continues below advertisement

কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?ঘটনাটি ইকুয়েডরের উপকূলবর্তী শহর গুয়ায়াকিলের আওয়ার লেডি অফ পারপেচুয়াল হেল্প গির্জার। গত শনিবার, ১৭ অক্টোবর, সেখানে সন্ধ্যার প্রার্থনাসভা পরিচালনা করছিলেন ফাদার পাত্রিসিও আলফ্রেদো সানচেজ মোলিনারি। সেই অনুষ্ঠানই সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

প্রার্থনাসভার মাঝেই ফাদারের পিছনে দেওয়ালে লাগানো বিশাল ক্রুশটি আচমকা খুলে পড়ে। ক্রুশটি সরাসরি তাঁর মাথার পিছনে আঘাত করে। কী ঘটছে, তা বুঝে ওঠার আগেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন উপস্থিত ভক্তরা। সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন তাঁরা। কয়েকজন দ্রুত পুরোহিতের কাছে ছুটে যান এবং অ্যাম্বুল্যান্স ডাকার চেষ্টা করেন।

Continues below advertisement

দুর্ঘটনার পর জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ওই দিনই তাঁর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস।

মৃত্যুর কথা বলেছিলেন পুরোহিত, তারপরই ঘটে গেল দুর্ঘটনাএই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হল, দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগেই জীবন ও মৃত্যু নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ফাদার মোলিনারি। তিনি উপস্থিত মানুষকে মনে করিয়ে দেন, একদিন প্রত্যেককেই মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। তাই জীবনের মূল্যবান সময় শুধু মোবাইল ফোনে কাটিয়ে না দিয়ে ঈশ্বর এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর উপর জোর দেন তিনি।

এরপর প্রার্থনা শুরু করেন ফাদার। সেই সময়ই পিছনের দেওয়াল থেকে খুলে তাঁর উপর আছড়ে পড়ে বিশাল ক্রুশটি। জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব নিয়ে তাঁর বক্তব্যের পর এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ায় বিষয়টি ঘিরে শোকের পাশাপাশি গভীর আলোড়ন তৈরি হয়েছে। 

কে ছিলেন ফাদার পাত্রিসিও সানচেজ মোলিনারি?

ফাদার পাত্রিসিও আলফ্রেদো সানচেজ মোলিনারি গুয়ায়াকিলের আওয়ার লেডি অফ পারপেচুয়াল হেল্প গির্জার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরোহিত ছিলেন। তিনি ক্যাথলিক ধর্মীয় সংগঠন কংগ্রিগেশন অফ দ্য মোস্ট হোলি রিডিমারের সদস্য ছিলেন। এই সংগঠন রিডিম্পটরিস্ট নামেও পরিচিত।

তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর শোকপ্রকাশ করে গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস। ধর্মীয় মহলেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। প্রয়াত পুরোহিতের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল।

কী কারণে খুলে পড়ল বিশাল ক্রুশ?

এই দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ক্রুশটি দেওয়ালে কীভাবে লাগানো ছিল, সেটি কোনও কাঠামোগত ত্রুটি বা সংযোগস্থলের সমস্যার কারণে খুলে পড়েছিল কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে নিশ্চিত কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার কারণ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সরাসরি সম্প্রচারিত প্রার্থনাসভায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে চর্চা শুরু হয়েছে। জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে যে পুরোহিত কিছুক্ষণ আগেই বক্তব্য রেখেছিলেন, তাঁরই এমন আকস্মিক মৃত্যু গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।