বঙ্গে ভোটযুদ্ধের ডঙ্কা বেজে গিয়েছে। বাংলার পাশাপাশি চার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির ভোটের দিনও ঘোষিত হয়েছে। আর তারপর থেকেই একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তবে বেশি নজর বাংলার দিকেই। বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে চাইছে গোটা পশ্চিমবঙ্গকে।
ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর এবার পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল কমিশন। এ ক্ষেত্রেও বাংলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিল কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলার ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য থাকছেন একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক। এটি নির্বাচনী ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। পাশাপাশি, পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে থাকছেন ৮৪ জন এবং আয়-ব্যয়ের পর্যবেক্ষক হিসাবে থাকছেন ১০০ জন।
বাংলার পাশাপাশি বাকি চার রাজ্য এবং এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ১,১১১ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন। অসমের ১২৬টি বিধানসভার জন্য ৫১ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, ৩৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক ও আয়-ব্যয়ের পর্যবেক্ষক হিসাবে থাকছেন ৫০ জন। কেরলের ১৪০টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ৫১ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, ১৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক ও ৪০ জন আয়-ব্যয়ের পর্যবেক্ষক। তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের জন্য থাকছেন ১৩৬ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, ৪০ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং আয়-ব্যয়ের পর্যবেক্ষক ১৫১।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৮ মার্চের মধ্যে অর্থাৎ বুধবার সমস্ত বিধানসভায় পৌঁছে যাবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকেরা। তারপর সেখান থেকেই নির্বাচনের গতিবিধির উপর নজর রাখবেন, যাতে শান্তিপূর্ণ এবং পক্ষপাতহীন ভাবে ভোট হয়। সেই কেন্দ্রের যে কেউ যে কোনও প্রয়োজনে দায়িত্বে থাকা পর্যবেক্ষকদের সাহায্য নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই সিপিএম, তৃণমূল ও বিজেপি তাদের প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে। তৃণমূল ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপি ১৮৮ আসনের জন্য ও প্রথম দফায় মোট ১৯২টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে CPM। বাকি আসনগুলির প্রার্থীদের নাম আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিমান বসু। তবে, সমস্ত রাজনৈতিক দল প্রস্তুত ভোটের ময়দানে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার জন্য। তবে ২০২১ এর নির্বাচনের থেকে এবারের নির্বাচনের দিকে নজর বেশি রয়েছে বাংলার মানুষদের। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাকে।
