নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় পদক্ষেপ আমেরিকার। আমেরিকার সামরিক ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেওয়ার পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। দেশের সব যোগ্য পুরুষদের নাম আপনাআপনিই সেনার খাতায় নথিভুক্ত করার ভাবনাচিন্তা চলেছে। সেই মর্মে নতুন প্রস্তাব জমা পড়েছে ইতিমধ্যেই, যাতে বলা হয়েছে, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি যোগ্য পুরুষদের নাম আপনা থেকেই সেনার খাতায় নথিভুক্ত হয়ে যাবে। ওই প্রস্তাবে সকলে অনুমোদন দিলে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকেই নয়া নিয়ম কার্যকর হবে। (US Military Recruitment)

Continues below advertisement

ইরানের সঙ্গে সবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে। তবে পশ্চিম এশিয়ায় এখনও যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। সেই আবহেই দেশের সামরিক নিয়োগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে আমেরিকা। ফলে দেশের পুরুষদের সেনায় যোগ দেওয়া একরকম বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে, ডাক পড়লেই যেতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।। দক্ষিণ কোরিয়ায় সেনায় ১৮ থেকে ২১ মাস কাটানো বাধ্যতামূলক। এবার আমেরিকাও সেই পথে হাঁটতে চলেছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে এতে। তবে আপাতত আপনাআপনি সকলের নাম নথিভুক্তিকরণের কথাই বলা হয়েছে। (US Army Enrolment)

আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের থেকে পৃথক অবস্থান Selective Service System-এর। তাদের তরফেই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যোগ্য পুরুষের রেকর্ড রয়েছে তাদের কাছে। তবে যে সময় এই প্রস্তাবটি এল, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আপাতত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও, সংঘর্ষ যদি দীর্ঘায়িত হয়, সেক্ষেত্রে নাগরিকদেরও সেনায় যোগ দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। 

Continues below advertisement

আমেরিকায় অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে নিজে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হয়। কিন্তু নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, আপনাআপনিই নাম নথিভুক্ত হয়ে যাবে সকলের। ডাক পড়লে যেতে হবে। 2026 National Defense Authorization Act-এ এর উল্লেখ ছিল। গত ৩০ মার্চ তথ্য় ও নিয়মবিধি বিভাগের দফতরে নয়া প্রস্তাবটি জমা পড়ে গিয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে এই মুহূর্তে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এই প্রথম সেনায় নিয়োগের ক্ষেত্রে এত বড় পরিবর্তন ঘটানোর পথে আমেরিকা। 

বিপ্লব থেকে গৃহযুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কোরিয়া যুদ্ধ থেকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ—এখনও পর্যন্ত মোট ছ’বার খসড়া প্রস্তাব জমা পড়ে আমেরিকায়। ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে যখন দেশের অন্দরেই ঘোর বিরোধিতা, সেই সময়ও ১৮ লক্ষ মানুষকে সেনায় যোগ দেওয়ানো হয়েছিল। তবে তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত সেনায় যোগদান ঐচ্ছিক ছিল। নয়া নীতি চালু করতে গেলে আইনেও রদবদল ঘটাতে হবে।

বর্তমানে আমেরিকায় যে নিয়ম চালু রয়েছে, তা হল, কেউ নাম নথিভুক্ত না করালে, তা অপরাধ বলেই গণ্য হবে। জরিমানা হতে পারে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত। পাশাপাশি পাঁচ বছরের সাজাও হতে পারে। সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য়, কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিতও হতে হয় বেশ কিছু ক্ষেত্রে। খসড়া প্রস্তাবে মহিলাদের কথা বলা নেই। 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জেরেই ওই প্রস্তাব কার্যকর করতে এত তৎপরতা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুতেই পশ্চিম এশিয়ায় সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ যে এত দীর্ঘায়িত হবে, তা আঁচ করতে পারেননি কেউই। বর্তমানে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, ফের সংঘর্ষ বাধতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।