নয়াদিল্লি: জল্পনা সত্য করে রাজনীতির ময়দানে অবতীর্ণ হলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। নিজের রাজনৈতিক দল 'America party'র সূচনা করলেন। মাইক্রোব্লগিং সাইট X (সাবেক ট্যুইটার)-এ সেই মতো ঘোষণা করলেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সখ্যে ইতি পড়েছে আগেই। প্রকাশ্যে বাগযুদ্ধেও জড়িয়েছেন তাঁরা। সেই আবহেই নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা করলেন ইলন। (Elon Musk)
নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইলন লেখেন, 'নতুন রাজনৈতিক দল চান, নতুন রাজনৈতিক দল পেলেন।অপচয় এবং দুর্মনীতির ভারে দেশ যখন দেউলিয়া হয়ে যায়, তা আর গণতন্ত্র থাকে না, বরং একদলীয় ব্যবস্থায় বাস করার সমান অবস্থা হয়। আপনাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য়েই আমেরিকার পার্টি গঠিত হল'। (America Party)
America Party গড়তে চান বলে আগেই জানিয়েছিলেন ইলন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটাভুটি করলে, ৮০ শতাংশ মানুষ নতুন রাজনৈতিক দলের সপক্ষে ভোটই দেন। এর পর, ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে ফের ভোটাভুটি করেন ইলন। লেখেন, 'দ্বিদলীয় ব্যবস্থা (কেউ কেউ একদলীয় বলবেন) মুক্তি চান কিনা, তা জানার সেরা দিন স্বাধীনতা দিবস। আমাদের কি আমেরিকা পার্টি তৈরি করা উচিত'? সেখানে ৬৫ শতাংশ মানুষ নতুন দলের সপক্ষে রায় দেন। আর তার পরই, রবিবার America Party-র সূচনা করলেন ইলন।
ইলন যে রাজনীতিতে পদার্পণ করতে চলেছেন, কিছু দিন ধরেই তার ইঙ্গিত মিলছিল। বিশেষ করে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে ফাটল ধরার পর থেকেই এমন সম্ভাবনার কথা উঠে আসছিল লাগাতার। ইলন নিজে সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে তোলেন। অথচ কয়েক মাস আগেও পরিস্থিতি একেবারে অন্য ছিল। ট্রাম্পকে দ্বিতীয় দফায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট করতে জলের মতো হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেন ইলন। ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পান তিনি।
কিন্তু গত কয়েক মাসে একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় ট্রাম্প এবং ইলনের মধ্যে। সরকারি দায়িত্ব থেকেও সরে আসেন ইলন। প্রকাশ্যে ট্রাম্প সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু করেন। তবে তাঁদের বন্ধুত্বের কবরে শেষ পেরেক হয়ে নেমে আসে ট্রাম্পের 'Big Beautiful Act', যার আওতায় সরকারি খরচ কমানো, করছাড় তুলে নেওয়ার মতো একাধিক সিদ্ধান্তের কথআ জানিয়েছে ট্রাম্প সরকার।। সীমান্তে দেওয়াল তোলা থেকে অভিবাসীদের জন্য় বন্দিশিবির গড়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যবিমা, খাদ্য নিরাপত্তা, সবুজ শক্তি ক্ষেত্রে এতদিন যে টাকা খরচ করত আমেরিকার সরকার, সেই খরচও কমিয়ে আনা হবে বলে খবর।
গোড়া থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিলেন ইলন। দেশের যুবসমাজের ঘাড়ে দেনা চেপে বসবে, দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে বলে দাবি করেন তিনি। এর পরই সটান নতুন রাজনৈতিক দলের কথা পাড়েন। তবে নতুন দল গড়লেও, আমেরিকার রাজনীতিতে America Party কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। কারণ, আমেরিকার রাজনীতি বরাবরই দ্বিদলীয় ব্যবস্থার আওতায় থেকেছে, রিপাবলিকান শিবির বনাম ডেমোক্র্যাট শিবির। গত কয়েক দশকে বার বার তৃতীয় পক্ষ মাথা তোলার চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত মানুষের স্বীকৃতি পায়নি। তাই ইলনের দল আমেরিকার রাজনীতিতে জায়গা করতে পারে কিনা, সেদিকে তাকিয়ে সকলে।