পাকিস্তান : পাকিস্তানে ফের হামলা। রয়টার্স ও স্থানীয় সংবাদ মাধমের খবর অনুযায়ী, শনিবার করাচির একটি প্রধান সড়কে বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের সম্প্রচারকারী সংস্থা ARY নিউজ সংস্থা এবং জিও নিউজ জানিয়েছে যে, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও পাকিস্তান আবহাওয়া দপ্তরের নিকটবর্তী একটি সড়কে আধাসামরিক বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সের কার্যালয়ের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় গুলির শব্দও শোনা যায়।
শনিবার এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হল পাকিস্তানের করাচি। প্রথমে জোরালো বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, আর তার ঠিক পরপরই শুরু হয় মুহুর্মুহু গুলি। রীতিমতো ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পাকিস্তান রেঞ্জার্সের কার্যালয়ের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। ডন পত্রিকার তথ্যমতে, উদ্ধারকর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এই ঘটনায় অন্তত তিনজন পুলিশ কর্মী নিহত হয়েছেন।
করাচির গুলিস্তান-ই-জোহরের যে নির্দিষ্ট এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। আর এই এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। কারণ এর আশেপাশেই রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাকিস্তানের আবহাওয়া ভবন এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘রেঞ্জার্স’-এর সদর দপ্তর। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটার পর পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে সামরিক বাহিনী। বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু করে তারা।
তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর একটি নৃশংস চরমপন্থী বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার (জুএ) সিন্ধু রেঞ্জার্স সদর দপ্তরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। খোলাফা-ই-রশিদীন ইশতিশহাদী ব্রিগেড নামক একটি আত্মঘাতী দল এই হামলাগুলো চালিয়েছে বলে সূত্রের খবর। সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তিনি "বিস্ফোরণের শব্দ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, মার্চ মাসেও পাকিস্তানে বড় হামলা হয়েছিল। ছিন্নভিন্ন হয়ে উড়ে গিয়েছিল বহু পাক সেনার দেহ। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকা মীরানশাহ বাজারের পাকিস্তানি সেনার চেকপোস্টের কাছে আত্মঘাতী হামলা চালাল এক জঙ্গিগোষ্ঠী। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ একটি বিস্ফোরক বোঝাই মোটরসাইকেলে চেপে এক সন্ত্রাসবাদী উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মীরানশাহ শহরে অবস্থিত চশমা পুলের কাছে সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে ধাক্কা মারে। তাতে বিরাট বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে সে নিজেও ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আশেপাশে বহু মানুষের দেহও ছিটকে পড়ে। সেই হামলায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩০ জনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছিল। ফিদাইন হামলার দায় স্বীকার করেছে হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন উস্তুদ উল খোরাসান (USK)।
