নয়া দিল্লি: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে ভয়াবহ ঘটনার নতুন ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই সামনে এল আতঙ্কের ছবি। বিমানের ককপিটের কাছে থাকা এক যাত্রীর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ঘটনার পরের মুহূর্ত। রক্তাক্ত অবস্থায় ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে যাত্রীদের সাহায্য চাইতে দেখা যায়। ভিডিয়োয় তাঁকে ‘হেল্প মি’ বলতে শোনা যাচ্ছে।

Continues below advertisement

ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানে। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার পথে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে তাঁর ওমানি সহকারী পাইলটের সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিক তদন্তে সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে। ওই সময় বিমানটি আচমকাই দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে। ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছিল, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রক্তাক্ত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত

Continues below advertisement

নতুন ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, ঘটনার পর বিমানের ভিতরে প্রবল বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যাত্রীরা ককপিটের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। কেউ পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেউ আবার সাহায্যের জন্য চিকিৎসকের খোঁজ করছেন।

এই পরিস্থিতিতেই গুরুতর আহত স্মিত ককপিটের দরজা খোলেন। তাঁর এই পদক্ষেপের পর যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের ককপিটে ঢোকার সুযোগ তৈরি হয়। সেখানে তাঁরা সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

বিমানে তখন ১৭৪ জন

ফ্লাইটটিতে মোট ১৭৪ জন ছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ককপিটে হামলার পর বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করেছিল। যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের হস্তক্ষেপের পাশাপাশি বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি ফ্লাইদুবাই পাইলটও পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণে এনে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

যাত্রীদের তৎপরতায় আটক করা হয় সহকারী পাইলটকে

ঘটনার পর বেশ কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁকে কেবিনের সরঞ্জামের তার ব্যবহার করে বেঁধে রাখার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন যাত্রী। তবে হামলায় ঠিক কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্তকারীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

চিকিৎসার জন্য সরানো হয়েছে ভারতীয় পাইলটকে

গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে প্রথমে সৌদি আরবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে আবু ধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারতীয় মিশনের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে, ওমানি সহকারী পাইলটকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে কোনও সন্ত্রাসবাদী যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। আপাতত ঘটনার পূর্ণ কারণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনায় বিমানের নিরাপত্তা, ককপিটের সুরক্ষা এবং উড়ন্ত বিমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা যায়—এই প্রশ্নগুলিও নতুন করে সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য বা হামলার চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।