নয়াদিল্লি: জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ নিম্নমুখী হওয়ায় চিন্তায় একাধিক দেশ। সেই আবহে শিশুর জন্ম নিয়ে আমেরিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়ছে। পরিসংখ্য়ান বলছে, সন্তানধারণে চল্লিশোর্ধ্ব মহিলারা কিশোরীদের টেক্কা দিচ্ছেন। ইতিহাসে এই প্রথম সদ্য মা হওয়া মহিলাদের মধ্যে কিশোরীর চেয়ে চল্লিশোর্ধ্ব মহিলার সংখ্যা বেশি। (Women Conceiving After 40)

আমেরিকার Centres for Disease Control and Prevention (CDC) এই পরিসংখ্যান সামনে এনেছে। বলা হয়েছে, এতদিন ২০ অনূর্ধ্ব কিশোরীরা মা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু বয়স ৪০ ছাড়িয়েছে এই মুহূর্তে তাঁদের ছাপিয়ে গিয়েছেন। বয়স ৪০ পেরিয়ে যাওয়া মহিলারা সন্তানধারণের দিকে ঝুঁকছেন বেশি করে। (Women's Health)

CDC জানিয়েছে, ১৯৯০ সাল থেকে অল্পবয়সে মা হওয়ার প্রবণতা লাগাতার কমছে। গত সাড়ে তিন দশকে ২০ অনূর্ধ্ব তরুণীদের মা হওয়ার হার কমেছে ৭৩ শতাংশ। সেই নিরিখে ৪০ ঊর্ধ্ব মহিলাদের সন্তানধারণের হার ১৯৩ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে।  ২০২৩ সালে আমেরিকায় যত শিশু জন্ম নেয়, তার মধ্যে ৪.১ শতাংশের মায়ের বয়স ছিল ৪০-এর বেশি। সেই নিরিখে ২০ অনূর্ধ্ব মায়েদের হার ৪.০ শতাংশ।

তবে আমেরিকাতেও জন্মের হার রীতিমতো উদ্বেগজনক জায়গায় বলে ধরা পড়েছে ওই রিপোর্টে। বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জন্মের হার ১৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। মহিলাদের মধ্যে অল্পবয়সে মা হওয়ার প্রবণতা কমছে বলেই জন্মের হারে পতন চোখে পড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। ২০ থেকে ২৪ এবং ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যেও সন্তানধারণের হার কমেছে যথাক্রমে ৪৪ শতাংশ ও ২৩ শতাংশ।

তুলনায় ৩০ থেকে ৩৪ বছর মহিলাদের মধ্যে সন্তানধারণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ শতাংশ। ৩৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সিদের মধ্যে ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ফলে আমেরিকায় যত শিশু জন্মাচ্ছে, তার মধ্যে ৫১.৪ শতাংশের মায়ের বয়সই ৩০ বা তার ঊর্ধ্বে। ১৯৯০ সালে এই হার ছিল ৩০.২ শতাংশ।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সন্তানধারণে  এখন আর তাড়াহুড়ো করতে চায় না কোনও পরিবারই। তার চেয়ে শিক্ষা, কেরিয়ার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সঠিক জীবনসঙ্গীর উপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। ফলে সন্তানধারণে দেরি হয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম উপায়ে সন্তানধারণ আরও সহজ হয়ে উঠেছে বলেও বেশি বয়সে সন্তানধারণের দিকে অনেকে ঝুঁকছেন বলেও দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।