কলকাতা : বাংলাদেশে অশান্তির মাঝেই রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তনের আভাস বাংলাদেশে। বহু বছর পর দেশে ফিরছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক আহমেদ। ১৭ বছর পর আজই বাংলাদেশে ফিরছেন তিনি।  আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে BNP কার্যত তারেকের নেতৃত্বেই লড়ছে। কিন্তু নেতাই ছিলেন না দেশে। 

Continues below advertisement

টানা ১৮ মাস জেলে কাটানোর পরে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছরের ‘স্বেচ্ছানির্বাসন’-পর্বে ইতি টেনে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় ফিরে ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তারেক রহমানের ফেরার আনন্দে আত্মহারা তাঁর অনুগামীরা।   বিএনপি সমর্থকরা তাঁর প্রত্যাবর্তনে আনন্দ উদ্বেলিত। সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে,  তাঁর অভ্যর্থনার জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ কর্মী জড়ো হতে পারে। নির্বাচনের পর বাংলাদেশের বিদেশনীতিতে কতটা পরিবর্তন আসবে, সেদিকে ভারত সহ সারা বিশ্বের নজর রয়েছে। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফের উত্তাল। হাদির পরিবার ও অনুগামীরাও তার মৃত্যুর দায় ঠেলেছে ইউনুস প্রশাসনের দিকে। 

Continues below advertisement

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের ধারণা,  আগামী বছর  নির্বাচনে বাংলাদেশে বিএনপির প্রত্যাবর্তন প্রায় নিশ্চিত । বিএনপি জিতলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন। তবে তাঁকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। 

বেলা ১২ টা নাগাদ ঢাকা বিমানবন্দরে নামার কথা তাঁর। তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ঘিরে হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্য়বস্থা।। গতকালই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্য়ানের তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে BNP। অসুস্থ মা-কে দেখতে যাওয়ার পাশাপাশি ওসমান হাদির সমাধিস্থলেও যেতে পারেন তারেক। তাই তারেকের এই ফিরে আসাকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখছে রাজনৈতিক মহল।               

তারেককে ‘গণসংবর্ধনা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন বিএনপি-র নেতা-কর্মী এবং সমর্থকেরা। তারেকের ছবি সংবলিত পোস্টার, ব্যানারে ঢেকে দেওয়া হয়েছে গোটা এলাকা।      

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষে ব্রিটেনে বিএনপির এক আলোচনাসভায় তারেক জানিয়ে দেন যে, ২৫ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশে ফিরছেন। সেই মতো বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমান ধরেন তিনি। বিমান থেকেই সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্ট করেন তারেক।