নয়াদিল্লি: সমকামী, রূপান্তরকামী যৌনকর্মীদের রক্তদান নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বজায়ই রাখল কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত বলে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে জানাল নরেন্দ্র মোদি সরকার। বলা হল, HIV, হেপাটাইটিসের মতো সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি বলেই এমন সিদ্ধান্ত। (Blood Donation)

Continues below advertisement

সুপ্রিম কোর্টের তরফে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখতে বলা হয়েছিল কেন্দ্রকে। বৃহস্পতিবার সেই নিয়ে শুনানি চলাকালীন কেন্দ্র জানায়, রূপান্তরকামী, অন্য পুরুষের সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া পুরুষ এবং মহিলা যৌনকর্মীদের উপর রক্তদানে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা হবে। কারণ HIV, হেপাটাইটিসের মতো সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে ওই সব গোষ্ঠীর মানুষ ‘পরিসংখ্যানগত ভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ’। (Supreme Court)

কেন্দ্রের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটি। তিনি জানান, ২০১৭ সালে ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের নির্দেশিকা পর্যালোচনা করে দেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিধিনিষেধ শিথিল করলে, তা ‘রক্তগ্রহীতাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে’।

Continues below advertisement

কেন্দ্র আরও জানায়, রূপান্তরকামী, সমকামী পুরুষ এবং মহিলা যৌনকর্মীদের মধ্যে HIV-র ঝুঁকি অন্য প্রাপ্তবয়স্কের তুলনায় ৬ থেকে ১৩ গুণ বেশি। রক্তদানের অধিকারের চেয়ে রক্তগ্রহীতার নিরাপত্তা এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আদালতে গিয়েছিলেন সমাজকর্মী টি শান্তা সিংহ। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা বিজ্ঞানসম্মত নয়, সেই সঙ্গে লজ্জাজনকও। রক্তদাতার পরিচয়ের পরিবর্তে, রক্ত কতটা নিরাপদ, তা যাচাই করে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা উচিত। আধুনিক নিউক্লিক অ্যাসিড টেস্টিং (NAT)-এর ব্যবস্থা করা উচিত সরকারের। 

যদিও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত নেতৃত্বাধীন, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ। আদালত বলে, “১ শতাংশ হলেও সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকা উচিত নয়।” সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশেষজ্ঞদের মতামতের উপর কোনও রকম হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয় সর্বোচ্চ আদালত।

CJI সূর্যকান্ত বলেন, "লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে রক্তের সুবিধা গ্রহণ করেন। বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষমতা নেই তাঁদের।" এতে আবেদনকারীদের হয়ে সওয়াল করা আইনজীবী জে কোঠারি বলেন, "রক্তদানের পর, তা পরীক্ষা করে তবেই ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই রক্তদানের পর HIV পরীক্ষা করা হয়, NAT হয়।" কোঠারি আরও যুক্তি দেন, "বিপরীতকামী মানুষ রক্ত দিতে গেলে, তখন অনিরাপদ সঙ্গমের কথা জানতে চাওয়া হয় না। তাই ব্যক্তিপরিচয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিপরীতকামী মানুষের থেকেও বিপদ হতে পারে। সেই রক্ত কি বিপজ্জনক নয়?" বিশেষজ্ঞদের কমিটির রিপোর্ট তুলে ধরা হলেও, কার্যকারণগুলি কেন তুলে ধরা হল না, প্রশ্ন তোলেন তিনি। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি সর্বোচ্চ আদালত।