Gujrat News: স্কুলে দেরি করে এসেছিল পড়ুয়া। স্বভাবতই শিক্ষিকা প্রশ্ন করেছিলেন কেন দেরি হয়েছে। আর তাতেই ক্ষেপে লাল ওই ছাত্র। অভিযোগ, সটান শিক্ষিকাকে চড় মেরেছে ওই পড়ুয়া। কোন সাহসে ওই শিক্ষিকা তাকে প্রশ্ন করেছেন, এমন কথাও নাকি জিজ্ঞেস করেছে দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্র। গুজরাতের পাঁচমহল জেলায় ঘটেছে এই কাণ্ড। গুণধর ছাত্র শিক্ষিকাকে চড় মেরেই থামেনি, পরে নিজের বাবা এবং একদল লোক নিয়ে এসে ওই শিক্ষিকাকে রীতিমতো শাসিয়ে গিয়েছে বলে খবর পুলিশ সূত্রে। শিক্ষিকাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এই বলে যে তাঁর ক্ষতি করে দেওয়া হবে। 

Continues below advertisement

দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা ছিল স্কুলে। সেই পরীক্ষাতেই দেরি করেছিল এসেছিল এক ছাত্র। আসতে কেন দেরি হয়েছে প্রশ্ন করায়, শিক্ষিকাকেই চরম অপমানিত হতে হয়েছে স্কুলের সকলের সামনে। 'আমায় প্রশ্ন করার আপনি কে?', 'কোন সাহসে আমায় প্রশ্ন করছেন?' - এই জাতীয় মনোভাব নিয়েই শিক্ষিকাকে চড় মেরেছে ছাত্র। তারপর আবার বাবা এবং লোকজন নিয়ে এসে ওই শিক্ষিকাকে স্কুলের মধ্যেই শাসিয়ে গিয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির ওই পড়ুয়া। গত ২৪ জানুয়ারি এই ঘটনা ঘটেছে বলে খবর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ছাত্রের শিক্ষিকাকে চড় মারার ভিডিও। 

গত ২৪ জানুয়ারি পাঁচমহলের সেহরাতে এস জে ডাভে হাই স্কুলে ঘটেছে এই ঘটনা। পুলিশ ঘটনাক্রমের পুনর্নিমাণ করবে বলে জানা গিয়েছে। ঠিক কী কী ঘটেছিল তার সঠিক তথ্য পেতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল এবং পেশ করা হয় আদালতে। তবে জামিনে ছাড়া পেয়ে গিয়েছে ১৮ বছরের ওই পড়ুয়া। পুলিশ সূত্রে খবর, ছাত্রের নাম মহম্মদ খান আনসারি। ২৪ জানুয়ারি দ্বাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় প্রিলিমিনারি টেস্ট দেরি করে দিয়ে গিয়েছিল এই ছাত্র। সেখানেই মহিলা ইনভিজিলেটর ছাত্রকে জিজ্ঞেস করেন, কেন দেরি হয়েছে। এরপরই ছাত্র বলেন, 'আমায় বাড়িতে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করে না। তাহলে আপনি কে আমায় প্রশ্ন করার?' এরপরই শিক্ষিকাকে চড় মেরে ক্লাসরুম থেকে চম্পট দেয় ওই ছাত্র। গোটা ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা ওই শিক্ষিকা এবং স্কুলের ইন-চার্জ প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। 

Continues below advertisement

ঘটনার তিনদিন পর ২৭ জানুয়ারি নিজের বাবা এবং ১৫-২০ জন লোকের একটা দল নিয়ে স্কুলে হাজির হয় ওই ছাত্র। শিক্ষিকাকে শাসানি দিয়ে ছাত্র বলে, শহরে তিনি একা থাকেন, তাঁর ক্ষতি করে দেবে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রীর দাবি স্কুলে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সে গিয়েছিল ঠিকই, তবে ক্ষমা চাইতে। ঘটনার তদন্ত চালু রেখেছে পুলিশ।