হরিদ্বার : 'অ-হিন্দু দের প্রবেশ নিষেধ' । দিকে দিকে পড়ল সাইন বোর্ড। জায়গাটি সারা ভারতের মানুষের কাছেই অত্যন্ত প্রিয় দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় সেখানে। মূলত পর্যটন কেন্দ্র হলেও, জায়গাটির সঙ্গে জড়িয়ে হিন্দুর ধর্মের আবেগ। হরিদ্বারের হর কি পৌরি ঘাট ।

Continues below advertisement

হর কি পৌরি মানে ভগবানের পদক্ষেপ। পৌরি কথার অর্থ সিঁড়ি। এই স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে নানা বিশ্বাস বা কিংবদন্তি। মনে করা হয়, রাজা বিক্রমাদিত্য তার ভাই ভর্তৃহরির স্মরণে এই ঘাট তৈরি করেছিলেন বলে জানা যায়। বিশ্বাস এখানেই আছে সেই ব্রহ্মকুণ্ড,  যেখানে অমরত্ব লাভের একমাত্র উপায়, অমৃতের ফোঁটা পড়েছিল । এখানেই প্রতি সন্ধেয় জ্বলে হাজার হাজার বাতি। হয় নয়নাভিরাম গঙ্গা আরতি।  কুম্ভ মেলা, অর্ধ কুম্ভ, এবং বৈশাখী উৎসবের মতো বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় এখানে। আগাগোড়া হিন্দু ধর্মের মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও এখানে দেশ-বিদেশ থেকে অন্য ধর্মের মানুষও আসেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই একাংশ চাইছিলেন, উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার কুম্ভ এলাকাকে শুধু হিন্দুদের এলাকা বলে সীমাবদ্ধ করা হোক। তেমন কিছু ঘোষণা প্রশাসসিক স্তর থেকে না হলেও শুক্রবার হর কি পৌরিতে 'অ-হিন্দু নিষিদ্ধ এলাকা' লেখা সাইনবোর্ড পড়ে গেল। হর কি পৌরি এবং আশেপাশের ঘাটগুলি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণকারী সংগঠন গঙ্গা সভা, সেতুর রেলিং এবং স্তম্ভ সহ এলাকার সমস্ত প্রবেশপথে এই সাইনবোর্ডগুলি লাগিয়েছে বলেই খবর। তবে, ১৯১৬ সালের হরিদ্বার পৌরি আইন অনুসারে হর কি পৌরির প্রধান স্নানঘাট এবং আশেপাশের এলাকা ইতিমধ্যেই অ-হিন্দুদের জন্য সীমাবদ্ধ। 

তিন দিন আগে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এই সাইনবোর্ডগুলি লাগানো হয়। কারণ দাবি, ওই ভাইরাল ভিডিওয় দেখা যায়, দুই আরবি পোশাক পরা দুই যুবক হর কি পৌরি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে পরে জানা যায় যে এই দুই যুবক হিন্দু ছিল এবং তাদের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য একটি ভিডিও তৈরি করতে এসেছিল। 

Continues below advertisement

আইন যদি আগেই ছিল, তাহলে হঠাৎ সাইনবোর্ড লাগানোর দরকার কেন হল ! নতুন সাইনবোর্ড স্থাপনের বিষয়ে 'গঙ্গা সভা'র সভাপতি নীতিন গৌতম পিটিআইকে বলেন, "১৯১৬ সালের হরিদ্বার পৌর আইন অনুসারে, হর কি পৌর এলাকায় অ-হিন্দুদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সাইনবোর্ডটি এই আইন সম্পর্কে সকলকে অবহিত করার জন্য স্থাপন করা হয়েছে।"