চেরাপুঞ্জি : না নিছক দুর্ঘটনা নয়। হত্যাই করা হয়েছে মধুচন্দ্রিমায় আসা যুবককে। এই আশঙ্কাই জোরদার হয়েছে তদন্তে। নববধূকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে আর ঘরে ফেরা হল না ইনদৌরের যুবকের। কয়েকদিন মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান দম্পতি। তারপর যুবকের দেহ উদ্ধার হলেও, এখনও খোঁজ মেলেনি তাঁর স্ত্রীর। 

মধ্যপ্রদেশ থেকে মেঘালয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন রাজা ও সোনম। কিন্তু দিন কয়েক ধরে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের লোকেরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তখন পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়।   সোমবার রাজা রঘুবংশীর দেহ গভীর খাদ থেকে উদ্ধার করে মেঘালয় পুলিশ। তবে তাঁর স্ত্রীর এখনও খোঁজ মেলেনি।

প্রথমে পরিবারের আশঙ্কা ছিল, কোনও দুর্ঘটনায় পড়েছেন নবদম্পতি। কিন্তু পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট খুনের প্রমাণ।   পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রদেশের রাজার দেহের সঙ্গে মিলেছে একটি অস্ত্রও। পুলিশের অনুমান এই দা ব্যবহার করেই তাঁকে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার  মেঘালয় পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল জানিয়েছে মৃতদেহ যেখান থেকে উদ্ধার হয়, তার কাছাকাছিই পড়ে ছিল একটি দা !  ওই জায়গা থেকে তারয়ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু স্ত্রী সোনমের খোঁজ মেলেনি এখনও । 

পূর্ব খাসি পাহাড়ের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট বিবেক সিয়াম বলেন, "এটি স্পষ্টতই হত্যাকাণ্ড। যুবককে হত্যা করা হয়েছে, এতে কোনও সন্দেহ নেই।" এই ঘটনায় শোকের ছায়া উত্তর-পূর্বের রাজ্যেও। কারণ বহু পর্যটকেরই পছন্দের ডেস্টিনেশন মেঘালয়। সেই জায়গা এমন অসুরক্ষিত হয়ে পড়লে , তার প্রভাব পড়তে পারে পর্যটন ব্যবসাতেও। 

নিহতের পরিবার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ,  মৃতদেহটি পড়েছিল ভাড়া করা স্কুটি যেখানে পার্ক করা ছিল, তার থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে । হয়ত তাঁদের অপহরণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথমে পুলিশ সে-কথা শুনতে রাজি ছিল না। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী পল লিংডো  ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, "যা ঘটেছে তাতে আমরা সত্যিই মর্মাহত। এই ঘটনাটি নজিরবিহীন। অতীতে এমন কোনও অপরাধ ঘটেনি। " 

এখন আশঙ্কা, সোনম কোথায় গেলেন ? তাঁকে কি অপহরণ করে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে? তিনি আদৌ বেঁচে আছেন তো ? আতঙ্কে পরিবার।